রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১১

সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতিতে বিচরণ করতে হলে লোকছড়া চর্চার বিকল্প নাই


একে ইঁদুর, দুয়ে দাঁত… / ওপেনটি বায়োস্কোপ… / জামাইরো চুলরে বট গাছের ঝুরিরে… / হাট টিমাটিম টিম… / আশালতা পালঙ পাতা… / আমপাতা জোড়া জোড়া… / খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়োলো… / বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর… / আয় আয় চাঁদ মামা… / আয়রে আয়রে টিয়ে… ইত্যাদি।

প্রাচীনকাল হতে লোকজনের মুখে মুখে যে ছড়াগুলো বিস্তার লাভ করেছে তাকে লোকছড়া বলে।কে এই ছড়াগুলো লিখেছেন তা ইতিহাসে পাওয়া যায় না। কিংবা কখন এই ছড়াগুলো রচনা করা হয়েছে তারও নির্দিষ্ট সময় কেউ বলতে পারে না। শুধুমাত্র ভাললাগা থেকে এগুলো আজও মানুষের মনে রয়ে গেছে।
আধুনিক কবিতার শুরু ও শেষ আছে।কিন্তু লোকছড়ার শুরু এবং শেষ বোঝা যায় না। আধুনিক কবিতা পর্যায়ক্রমিকভাবে আবর্তিত হয় কিন্তু লোকছড়ার কোন মিল নেই। এক চরণের সঙ্গে অন্য চরণের কোন সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার আধুনিক কবিতা কোন নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে রচিত হয় কিন্তু লোকছড়ার কোন নির্দিষ্ট বিষয় নাই। একেক লাইনে বা চরণে একেক বিষয় অবতারনা হয়। শিশুরা যেমন একটা প্রশ্ন করার পর তার উত্তর না পাবার আগেই আর একটা প্রশ্ন করে ফেলে তেমনি লোকছড়ার একটা বিষয় এর ভিতর অন্য বিষয় ঢুকে পড়ে।
লোকছড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর কোন অর্থ পাওয়া যায় না।এর কোন অর্থ থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। যে এই ছড়াগুলো পড়বে তাকে নিজের মত অর্থ করে নিতে হবে। এই কারণে লোকছড়া চর্চার মাধ্যমে কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি পায়। লোকছড়া চর্চা করলে মানুষের কল্পনার ঘোড়া লাগামহীনভাবে টগবগিয়ে ছুটে চলে। তাই বলা যায়, কল্পনাপ্রবন হতে হলে লোকছড়া চর্চার বিকল্প নাই।
আবার দেখা যায় যে, লোকছড়ায় শত্রুকে বধ করা, অন্যায়-অত্যাচার প্রতিরোধ করা, অসম্ভব কার্যকে সফলভাবে সম্পন্ন করার চিত্র প্রতিফলিত হয়। ফলে লোকছড়া চর্চা করলে শত্রুকে ভয় না পাবার শিক্ষা পাওয়া যায়। অন্যায়-অত্যাচার প্রতিরোধ করার শক্তি অর্জিত হয় এবং কোন কার্যকে কঠিন বলে মনে হয় না।
মানবজীবন বিভিন্ন সমস্যায় পর্যবসিত। মানুষ চলতে ফিরতে বিভিন্ন প্রতিকূলতার সন্মুখীন হয়।এসব প্রতিকূলতা জয় করলে তবেই সফল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠা যায়। আর এসব প্রতিকূলতা জয় করতে হলে কাউকে ভয় পেলে চলবে না। অন্যায়কে প্রতিহত করতে হবে এবং কোন কাজকে অসম্ভব ভেবে বসে থাকলে চলবে না। সর্বোপরি তাকে কল্পনাপ্রবন হতে হবে। আর এসব অর্জন করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন লোকছড়া চর্চা করা। লোকছড়া চর্চার মাধ্যমেই উপরোক্ত শক্তিগুলো অর্জন করা যায়।
অন্যদিকে দেখা যায়, লোকছড়া সাধারণত মানব মনের প্রতিচ্ছবি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় নিযে রচিত। যা সহজেই মানুষের মনে গেঁথে যায়। ফলে এই ছড়াগুলোর ভিতরে সহজেই প্রবেশ করা যায়। এই রকম সহজে ছড়ার মধ্যে প্রবেশ করা পরবর্তীতে গভীর কোন কবিতায় প্রবেশ করা সহজ করে দেয়। অর্থাৎ বর্তমান বা আধুনিক, গাম্ভীর্যপূর্ণ কবিতা বুঝতে হলে বা কবিতার মধ্যে প্রবেশ করতে হলে প্রথমেই লোকছড়া চর্চা করতে হবে। লোকছড়া চর্চার মাধ্যমেই আধুনিক কবিতার ভিতরে প্রবেশ করতে হয়।
শিকড় ছাড়া যেমন কোন গাছ বেঁচে থাকতে পারে না তেমনি লোকছড়া চর্চা ছাড়া পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠা যায় না বা আধুনিক কবিতা বা গাম্ভীর্যপূর্ণ সাহিত্যে প্রবেশ করা যায় না। সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতিতে বিচরণ করতে হলে লোকছড়া চর্চার বিকল্প নাই।

সালাম খোকন

বাকশিল্পের বিকাশে কণ্ঠশীলন


এখানে আমরা দুটো দিক খুঁজে পাই। একটি হলো বাকশিল্পের বিকাশে শুদ্ধ, সহজ ও সুন্দর উচ্চারণ অপরটি হলো এতে কণ্ঠশীলনের ভূমিকা।

উল্লিখিত বিষয় হতে আমরা বুঝতে পারি- স্বতস্ফুর্তভাবে বা এমনি এমনি বাকশিল্পের বিকাশ সম্ভব নয়। শুদ্ধ, সহজ ও সুন্দর অর্থাৎ প্রমিত উচ্চারণে বিভিন্ন সমস্যা থাকার কারনে বাকশিল্পের বিকাশ সাধন হচ্ছে না।আর এই কারণেই কণ্ঠশীলন নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্ম। বাকশিল্পের বিকাশ সাধনের জন্য বিভিন্ন রকম সমস্যার সমাধানে কণ্ঠশীলন কিভাবে তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।
* বাংলা ভাষার লিখিতরূপ এবং উচ্চারিতরূপ অনেক ক্ষেত্রে এক নয়। অনেক শব্দ লেখা হয় একভাবে কিন্তু তা বলা হয় অন্যভাবে। সচরাচর পরীক্ষাগুলো আমরা লিখিতভাবে দিয়ে থাকি।ফলে ভাষার লিখিতরূপ শুদ্ধ হলেও মৌখিকরূপ অশুদ্ধ থেকে যায়। ভাষার মৌখিকরূপের শুদ্ধতা আনা ও সুন্দর করাই কণ্ঠশীলনের প্রধান কাজ।
* ভাষার প্রকাশ করা হয় ধ্বনি এবং বর্ণের মাধ্যমে। ধ্বনির লিখিতরূপই হলো বর্ণ। দেখা যায় যে, একাধিক বর্নের ধ্বনি বা উচ্চারিত রূপ একটি আবার একাধিক ধ্বনি প্রকাশ পায় একটি বর্নে। তাই কোন বর্নে কখন কোন ধ্বনি উচ্চারণ করতে হবে তা কণ্ঠশীলন শিখিয়ে দেয়, যা স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানো হয় না।
* বাংলা বর্ণমালায় বেশকিছু অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনি আছে। প্রাণ অর্থ বাতাস। প্রাণ ছাড়া যেমন কোন প্রাণী বাঁচতে পারে না তেমনি বাতাস এর কমবেশি হলে বর্নের নিজ স্বত্তা নষ্ট হয়ে যায়। তাই বর্ণমালার অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ সম্পর্কে কণ্ঠশীলন শিক্ষা দিয়ে বর্ণদের মৃত্যুর হাত থেকে যেমন রক্ষা করে তেমনি উচ্চারণের শুদ্ধতা ও সৌন্দর্য্য আনয়ন করে।
* ভাষাকে ব্যবহার করতে করতে মূল থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে তার উচ্চারিতরূপ বিভিন্ন রকম হয়ে যায়। ভাষার এই বিভিন্নরূপকে পরিহার করে সহজ ও সুন্দর রূপের প্রসার ঘটানোই কণ্ঠশীলনের আর এক কাজ।
* অন্যভাষা শেখার জন্য আমরা দিনের পর দিন সময় ব্যয় করি। অথচ মাতৃভাষার পিছনে আমরা সময় দেই না। মাতৃভাষার প্রতি এই অবহেলার কারণে, দরদের অভাবে বা আন্তরিকতার অভাবে ভাষা তার স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে। মাতৃভাষার জন্য ৫২তে রক্ত দিয়েছি শুধু এটা মনে করে গর্ববোধ করলে হবে না। সেই ভাষাকে সুপ্রতিষ্টিত করার জন্য সাধনা করতে হবে এই শিক্ষাই দিয়ে থাকে কণ্ঠশীলন।
অন্যদিকে কণ্ঠশীলন শুধু প্রশিক্ষণ দিয়েই ক্ষ্রান্ত হয় না। বরং প্রশিক্ষণার্থীদের এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য করে নেয়। যেকোন ভাষা শেখার জন্য শুধু গ্রামার/ব্যাকরণ জানলেই চলে না। উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়া কোন ভাষাই ভালভাবে শেখা যায় না। কণ্ঠশীলন প্রমিত উচ্চারণের স্বার্থক প্রয়োগক্ষেত্র। শুদ্ধ, সহজ ও সুন্দর উচ্চারণের পরিবেশ সৃষ্টি করে বাকশিল্পের বিকাশে কণ্ঠশীলন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে।
(সাহিত্যের বাচিক চর্চা ও প্রসার প্রতিষ্ঠান কণ্ঠশীলন শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তিশিক্ষার চারমাসব্যাপী নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে থাকে নিয়মিতভাবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের দোতলায় প্রতি শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১২.৩০ মিনিট পর্যন্ত ক্লাস নেয়া হয়।)

সালাম খোকন
Ork5050@gmail.com

নান্দনিক প্রযোজনা ও নাটকের আবৃত্তি


আবৃত্তি প্রযোজনা সম্পর্কে নানাজনের নানারকম ধারণা প্রচলিত আছে। এ পর্যন্ত কোন একটি ধারণাকে দৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠিত বা সংজ্ঞায়িত করা হয় নি। কারো মতে, একটি সুনির্দিষ্ট বক্তব্য সংবলিত কবিতার গ্রন্থনা ব্যতীত আবৃত্তি প্রযোজনা হতে পারে না। ভিন্ন মত হলো, সাহিত্যের যে কোন উপাদানের স্মৃতি নির্ভর পাঠ বা নান্দনিক উচ্চারণ সুগ্রন্থিত বা বক্তব্য-সমৃদ্ধ হলে তাকে আবৃত্তি প্রযোজনা নামে অভিহিত করা যায়। এরূপ বহুমুখী ব্যাখ্যা বা যুক্তি দ্বারা আবৃত্তি প্রযোজনার প্রকৃত রূপ সম্পর্কে বিতর্ক চলে আসছে। এসব বিতর্কের অবসানকল্পে বাংলাদেশের আবৃত্তি ক্ষেত্রের সামগ্রিক রূপকল্প ও তা বাস্তবায়নের পন্থা অনুসরণের দায়িত্ব গ্রহণ করা একান্ত জরুরি। উপর্যুক্ত বিষয়টি অনুধাবনের দায়িত্ব এদেশের আবৃত্তি দলগুলোর কর্তাব্যক্তি ও নির্দেশকদের কাঁধে যেমন, তেমনি সকল দল সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী ফোরামের নেতৃত্ব গ্রহণকারীদের উপরও বর্তেছে। তারা তাদের উপর অর্পিত কর্ম সম্পাদনে কি পরিমাণ আন্তরিক তার উপর নির্ভর করছে আমাদের আবৃত্তির ভবিষ্যৎ। তবে চলমান সময়ের আবৃত্তি আন্দোলনের প্রধান অনুসঙ্গ আবৃত্তি প্রযোজনা হওয়ায় এটিকে অবহেলা করার কোন সুযোগ থাকছে না।
প্রযোজনা শব্দটির ব্যবহার রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা, মঞ্চনাটকের সীমানা ছাড়িয়ে আবৃত্তিতেও যুক্ত হয়েছে। পূর্বে একক ও দলবদ্ধভাবে আবৃত্তি করলে তাকে একক আবৃত্তি ও বৃন্দ আবৃত্তি এ রকম দু’টি নামে অভিহিত করা হতো। এখন একক বা দলবদ্ধ দু’টি ক্ষেত্রেই প্রযোজনা শব্দটির বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। যে কোন ধরণের আবৃত্তির প্রাথমিক শর্ত হলো বিষয় নির্বাচন। যে বিষয়টিকে উপস্থাপন করা হবে সে সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারণা থাকলে তার গ্রন্থনা ও সম্পাদনা করা সহজ হয়ে ওঠে। সুগ্রন্থিত ও সংযমী সম্পাদনা-ক্রিয়া সম্বলিত প্রযোজনার বাঁধন আঁটসাট থাকে। স্বরের প্রকৃতি ও বাচন ভঙ্গি অনুযায়ী পারফর্মার নির্বাচন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। এক্ষেত্রে সামান্যতম পক্ষপাতিত্ব ও ত্রুটি সমগ্র প্রযোজনার মান অবনয়নে ভূমিকা রাখে। প্রস্তুতিপর্ব চলাকালীন অনুসঙ্গের কথাও ভেবে নিতে হয়। আজকাল আবৃত্তি প্রযোজনাতে আলো, পোশাক, সেট, মিউজিক লক্ষণীয় ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মূল বিষয়বস্তু বা কাব্যবস্তুটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও বাস্তবানুগ অনুসঙ্গ ব্যবহারে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় প্রযোজনাটি শ্রুতিসুখকর ও দৃষ্টিনন্দন না হয়ে ক্যারিক্যাচার সমৃদ্ধ ও হাস্যকর সার্কাসে পরিণত হবে। এর ফলে প্রযোজনা উপস্থাপনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। একটি প্রযোজনার মূল লক্ষ্য হলো তার বক্তব্যকে প্রাণবন্ত করে শ্রোতা-দর্শকের নিকট উপস্থাপন করা। সাহিত্যের যে সকল উল্লেখযোগ্য পাঠ মানব মনে সঞ্চারণ করা প্রয়োজন সেগুলোকে মানসম্পন্ন বাচনশৈলীর সাহায্যে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা দরকার। এ অনুশীলন মানুষের রুচির স্তর উন্নীতকরণ, মানবিকতা চর্চার পথ উন্মুক্তকরণ ও তার বিকাশের জন্য সহায়ক হয়ে উঠে। আমাদের কমিটমেণ্টের কোন অভাব নেই। কিন্তু কোন্ পদ্ধতি অনুসরণের ফলে শিল্পরীতি অক্ষুণœ রাখা যায় এবং নতুনতর সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়, সে সম্পর্কে সুষ্পষ্ট জ্ঞানের অভাব রয়েছে। ফলে আবৃত্তি প্রযোজনার দ্বারা প্রায়শ ব্যাপক হারে দর্শক শ্রোতাকে আকৃষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কোন কোন আবৃত্তি প্রযোজনা মাইল ফলক হিসাবে এ দেশের আবৃত্তির বিস্তারকে অনেক দূর পর্যন্ত টেনে আনতে সক্ষম হয়েছে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হলে এ দেশের আবৃত্তির অঙ্গন নিঃসন্দেহে আরও সমৃদ্ধ হবে। কোন আবৃত্তি প্রযোজনা মানুষের মনে প্রতিক্রিয়া ঘটালে তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারা যায়। আবৃত্তির গতি-প্রকৃতির সাথে সাথে উপস্থিত শ্রোতাও উদ্বেলিত হয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারে। দেশ, মানুষ ও সমাজের স্পর্শকাতর বিষয়গুলি সঠিক ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনার দ্বারা ব্যক্ত করলে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগ স্থাপিত হয়। এ রকম বেশ কিছু প্রযোজনা এ দেশের আবৃত্তির জগতকে প্রসারিত করেছে। প্রসঙ্গত ‘মানুষেরা মানুষের পাশে’ ও ‘ভাষার লড়াই আবৃত্তি পালা’ প্রযোজনা দু’টির নাম উল্লেখ করা যায়। প্রথমোক্ত প্রযোজনায় অসহায় মানুষের বঞ্চনার বিবরণ, তাঁদের প্রতিরোধ স্পৃহা ও জাগরণের কথাগুলি মর্মস্পর্শী বর্ণনায় প্রাণবন্ত করে তোলা হয়েছে। পারফর্মার সিলেকশন, গ্রন্থনা, কোরিওগ্রাফি, মিউজিক, আলো ও পোশাকের ব্যবহারের চমৎকারিত্ব দর্শক-শ্রোতাকে বিমোহিত করে। আবৃত্তি শিল্পীদের শারীরিক ছন্দ কাব্যবস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় সে প্রযোজনাটিকে সার্থক করে তুলেছে। ভাষার লড়াই আবৃত্তি পালা প্রযোজনার নির্দেশনা কর্মের সাথে যুক্ত থাকার সুবাদে এর প্রতিটি মঞ্চায়নে শ্রোতা-দর্শকের তাৎক্ষণিক উপলব্ধির তরঙ্গ অবলোকন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। বাংলা ভাষার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নিজ ভাষাকে অবলম্বন করার জন্য হাজার বছরের সংগ্রামের ইতিহাসভিত্তিক একটি সাধারণ ও দীর্ঘ ছড়া এ প্রযোজনার বিষয়বস্তু। ছড়াকারের ইঙ্গিত অনুসরণ করে দেশাত্মবোধক সংগীত ও দেশজ আঙ্গিকের কোরিওগ্রাফির সংযোজন প্রযোজনার মানকে যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করে। এ যাবৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে আবৃত্তি প্রযোজনাটি এগারোবার মঞ্চায়ন হলেও দর্শক-শ্রোতার আকর্ষণের তীব্রতা কমতে দেখা যায় নি। উপস্থাপন রীতির সৌকর্যের কারণে একটি সাধারণ মানের স্ক্রিপ্ট মানব-হৃদয়ে অনন্য প্রতিক্রিয়া ঘটাতে সক্ষম হয়। আমাদের বাচিক মাধ্যম মোটেই দুর্বল নয়। সঠিক প্রয়োগকৌশল উদ্ভাবনের দ্বারা যে কোন আবৃত্তি প্রযোজনার সার্থক রূপায়ণ সম্ভব।
(২)
কবির একান্ত অনুভূতি ও ভাবনার প্রতিফলন ঘটে তার কবিতায়। ভাব রস ছন্দ অলঙ্কারের মাধ্যমে কবির অন্তর্লোকের আনন্দ বেদনা ও সুখ দুঃখের ছবি ফুটে উঠে। পাঠক যখন কবিতা পাঠ করে, তখন তার মধ্যে জেগে উঠে অপর একটি অনুভূতির শিহরণ, মস্তিষ্কে জাগ্রত হয় আরেক ধরণের গভীর কোন চিন্তা। কবি এবং পাঠকের মনে অনুরূপ ভাব ও চিন্তার প্রতিফলন ঘটার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কবিতার বিষয়বস্তু ও বক্তব্যের মূল সূত্রটি অনুসরণ করলে দু’জনের মধ্যে একটি মেলবন্ধন আশা করা যায়। একজন আবৃত্তিকার যখন কবিতাটি পাঠ করে শোনাবেন তখন শ্রোতাদের মধ্যে ভিন্নতর কোন প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে। এসব ক্ষেত্রে প্রায়শ কবির আশাতীত ও অতিরিক্ত ব্যঞ্জনা সৃষ্টি হতে দেখা যায়।
শুধু সাহিত্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নাটক লেখা হয় না। সেটিকে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে দর্শকের সম্মুখে উপস্থাপন করাই মূল লক্ষ্য থাকে। সে জন্য নাট্যকার নাটকটিকে সাজান দর্শকের কথা মাথায় রেখে। একজন নির্দেশক ঐ নাটকটিকে নিজস্ব ভাবনার মাধ্যমে নতুন রূপে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করেন। নট-নটির বাচিক ও শারীরিক অভিনয়, নৃত্য-গীত, বাদ্য যন্ত্র, আবহসঙ্গীত, সেট আলোক ইত্যাদির মাধ্যমে নির্দেশক নবতর শিল্প সৃষ্টির প্রয়াস চালান যা নাটক পাঠের সময় অনুভূত হয় না।
মঞ্চনাটকে বাচিক অভিনয় ছাড়াও শিল্পী চক্ষু, মুখমন্ডল, হাত-পা ও সমগ্র শরীরকে ব্যবহার করতে পারেন। কথা বলার সময় ও বিরতিতে হাঁটাচলা, উঠাবসা, দৃষ্টি নিক্ষেপ, দৃষ্টি বিনিময়, হাত-পা ও শারীরিক ইঙ্গিত ইত্যাদির সাহায্যে অভিনয় করে থাকেন। তাতে তিনি অভিনয় মঞ্চের পরিপূর্ণ ব্যবহারের এবং আবহসঙ্গীত ও আলোর সঙ্গে ঐকতান সৃষ্টির সুযোগ পান।
নাটক বা কাব্যনাটকের শ্রুতিরূপ উপস্থাপনের রীতিটিকে আবৃত্তিরই ভিন্নরূপ বলা যায়। এক্ষেত্রে শিল্পী কেবল স্বর প্রক্ষেপণের দ্বারা অভিনয় করার সুযোগ পান; চক্ষু, মুখমন্ডল, হস্তপদ এবং শরীরের ব্যবহার প্রায় নাই বললেই চলে। কিন্তু দর্শক উপস্থিতিতে বাচিক অভিনয় করতে হয় বলে একেবারে নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টি ও শারীরিক ভাব প্রদর্শনের সুযোগ নাই। ফলে তাকে চক্ষু, হাত ও শরীরের মাধ্যমে অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে হয়। তবে সেটি কোনক্রমেই মঞ্চাভিনয়ের মত হবে না। কবিতা আবৃত্তির ক্ষেত্রে আবৃত্তিকারকে যে ধরণের শারীরিক ছন্দ প্রদর্শন করতে হয়, নাটকের শ্রুতিরূপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অনুরূপ অভিব্যক্তির প্রকাশ ঘটে। সুতরাং মঞ্চাভিনয়ের স্বরক্ষেপণ এবং শ্রুতিরূপের স্বরপ্রক্ষেপণের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য থাকে। মঞ্চাভিনয়ে চরিত্রানুগ বাকভঙ্গি প্রয়োগ করতে হয়, শ্রুতিরূপে সুর ও গতির সমন্বয়ে ভিন্ন ধরণের বাকভঙ্গি প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে। রেডিও নাটকে অভিনয় এবং মঞ্চে শ্রুতিরূপের ক্ষেত্রেও বাকরীতির পার্থক্য নির্ণয়ের প্রয়োজন রয়েছে। কেননা রেডিওতে শুধু দূর থেকে কানে শোনার উপর নির্ভর করতে হয় শ্রোতাকে। কিন্তু মঞ্চের শ্রুতিরূপ শ্রোতার সম্মুখেই উপস্থাপিত হওয়ার ফলে শ্রোতার মানসিক অবস্থান একই থাকে না। যেমন টেলিভিশনের নাটক ও মঞ্চ নাটকের পরিবেশ ও অবস্থানের ভিন্নতার কারণে বাকভঙ্গি ও উপস্থাপন রীতিতে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান।
মঞ্চনাটক এবং মঞ্চ শ্রুতিরূপের মাধ্যম ভিন্ন হওয়ায় একই শিল্পীকে একই নাটকে ভিন্নতর বাকভঙ্গি ও স্বরভেদের প্রয়োগ ঘটাতে হয়। এ ব্যাপারটি সম্পর্কে সুষ্ঠু প্রায়োগিক ধারণা না থাকার ফলে অনেক প্রয়োগকর্মী বিভ্রান্তিতে পড়েন। একজন মান সম্পন্ন অভিনেতা যেমন ভাল আবৃত্তি করতে পারবেন তার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না, তেমনি উঁচুদরের কোন আবৃত্তিকার অভিনয় কুশলী হবেন সে কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় না। তবে অনেকেই আছেন যারা আবৃত্তি ও নাটক উভয় মাধ্যমে চর্চা ও নিষ্ঠার দ্বারা সমান দক্ষতা প্রদর্শনে সক্ষম হন।
নাট্যাভিনয় দেখা ও শোনার ব্যাপার হলেও আবৃত্তি শুধু কানে শোনার বিষয়। মঞ্চে সাধারণত অভিনেতাকে চলমান অবস্থায় দেখা যায়, অথচ আবৃত্তিশিল্পীকে নিশ্চলভাবে উপবিষ্ট বা দন্ডায়মান অবস্থায় দেখা যায়। সেক্ষেত্রে আবৃত্তিশিল্পীর কণ্ঠনিসৃত বাণী শুনলেই চলে না, তাকে তাকিয়ে দেখতেও হয়। কিন্তু তার বক্তব্যের সাথে শারীরিক ছন্দের সাম্য লক্ষ্য করা যায় না। এক্ষেত্রে একজন শ্রোতা তাকে যেভাবে দেখতে পান, কথাগুলো ঠিক সেরকমভাবে শুনতে পান না। কেবল কানে শুনে কথার ছন্দ, অর্থ ও ভাব শ্রোতাকে অনুধাবন করতে হয়। সে জন্য আবৃত্তিশিল্পীর কণ্ঠস্বরের প্রস্তুতি, স্বর প্রক্ষেপণরীতি, ভাব-রস-ছন্দ জ্ঞান, নির্মাণ কৌশল ইত্যাদির ব্যাপারে অতিমাত্রায় সচেতন হতে হয়। শ্রোতার কর্ণকুহরে মর্মবাণী পৌঁছে দেওয়ার মত সার্থক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু অভিনয়শিল্পীকে শুধু স্বরের উপর নির্ভর করতে হয় না। তাই একই নাটকের অভিনয় ও আবৃত্তির ক্ষেত্রে বাকরীতি, বাক প্রক্ষেপণ ও উপস্থাপন কৌশলের বৈচিত্র থাকা বাঞ্ছনীয়।

মীর বরকত
উচ্চারণ প্রশিক্ষক, আবৃত্তিকার
নির্দেশক, সংস্কৃতিকর্মী

সম্পাদক, সংগঠন
কণ্ঠশীলন

ওয়াহিদুল হক-নিরন্তর পথচলার এক মানুষ। ‘কণ্ঠশীলন’ প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম

ওয়াহিদুল হক বাংলাদেশের লেখক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি রবীন্দ্র সংগীতে বিশেষজ্ঞ বলে খ্যাতিমান ছিলেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ‘স্বাধীন বাংলা শিল্পী সংস্থা’র প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন। তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
জীবনবৃত্তান্ত
তিনি ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ ঢাকা জেলার ভাওয়াল মনহরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ ওয়াহিদুল হক আরমানিটোলা গভর্ণমেন্ট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে উচচ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন৷ তিনি প্রথম জীবনে রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও লেখিকা অধ্যাপিকা সনজিদা খাতুনকে বিবাহ করেন।
কর্মজীবন
ওয়াহিদুল হকের পেশা ছিল সাংবাদিকতা। ছাত্রাবস্থা থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫ বছর সাংবাদিকতা পেশায় ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় আরম্ভ করে আমৃত্যু প্রায় ৫৪ বছরকাল তিনি সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন৷ ষাটের দশকে দি অবজারভারের শিফট্-ইন চার্জ ছিলেন। পরে মর্নিং নিউজ ও দ্যা ডেইলি স্টারের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন৷ এক সময় ছিলেন দ্যা পিপলস্ পত্রিকার সম্পাদক। জীবনের শেষ দিকে “অভয় বাজে হৃদয় মাঝে” ও “এখনও গেল না আঁধার” শিরোনামে নিয়মিত কলাম লিখেছেন দৈনিক জনকন্ঠ ও দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগে ১০ বছরেরও বেশী সময় খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন।
সংগঠক
ওয়াহিদুল হক ছিলেন একজন সংগঠক যিনি পেশা হিসেবে সাংবাদিক হলেও তাঁর আসল কর্মক্ষেত্র ছিল সংস্কৃতি অঙ্গন। তিনি ছিলেন মেধাবী সাংবাদিক, রবীন্দ্র সংগীতের তত্ত্বজ্ঞ, শিক্ষক, সংগঠক ও বাঙালি সংস্কৃতির একনিষ্ঠ প্রচারক। রবীন্দ্র সংগীত ছিল তাঁর বিচরণ ক্ষেত্র। ওয়াহিদুল হক ১৯৬১ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ‘ছায়ানট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ১৯৯৯ থেকে আমৃত্যু সহ-সভাপতি ছিলেন।
ওয়াহিদুল হকের গঠিত সংগঠনগুলো হলো

  1. জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ-এর কার্যকরী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সহ-সভাপতি এবং ১৯৯৯ থেকে আমৃত্যু সভাপতি
  2. আবৃত্তি সংগঠন “কন্ঠশীলন” এবং শিশু আবৃত্তি সংগঠন “শিশুতীর্থ”- এর প্রতিষ্ঠাতা
  3. আনন্দধবনি-এর প্রতিষ্ঠাতা
  4. মুকুল ফৌজ কিশোর সংগঠনের কর্মী
  5. বাংলাদেশ ব্রতচারী সমিতি-এর সহ-সভাপতি (২০০৩ সাল থেকে আমৃত্যু)
  6. বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন (বর্তমান আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
  7. পূর্ব পাকিস্তান ফিল্ম সোসাইটি পরে বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটির- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
  8. বিজ্ঞান সংস্কৃতি পরিষদ-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
  9. বসন্ত উৎসব উদ্যাপন পরিষদ-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
  10. আবৃত্তি পরিষদ-এর সভাপতি
  11. স্বাধীন বাংলা শিল্পী সংস্থা-এর প্রতিষ্ঠাতা
  12. ২০০১ সাল থেকে আমৃত্যু “নালন্দা”র-কার্যকরী পরিষদের সদস্য
প্রকাশিত গ্রন্থ
  • চেতনা ধারায় এসো
  • গানের ভিতর দিয়ে
  • সংস্কৃতিই জাগরণের প্রথম সূর্য
  • প্রবন্ধ সংগ্রহ
  • ব্যবহারিক বাংলা উচচারণ অভিধান
  • সংস্কৃতির ভুবন
আবৃত্তি ও গানের সিডি
  • সকল কাঁটা ধন্য করে
  • আজ যেমন করে গাইছে আকাশ
  • আছ অন্তরে
  • রবীন্দ্রনাথের কবিতা
সন্মাননা
ওয়াহিদুল হককে সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৮ সালে মরণোত্তর একুশে পদক ২০০৮ (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়। সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখায় ওয়াহিদুল হককে “স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১০” (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়। তিনি কাজী মাহবুবউল্লাহ ট্রাস্ট স্বর্ণ পদক লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ২০০০ সালে বাংলা একাডেমী সম্মানসূচক ফেলোশীপ পান।
মৃত্যু
ওয়াহিদুল হক ২০০৭ সালের ২৭ শে জানুয়ারি বিকাল ৫টায় বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন সকাল সোয়া ৯টায় হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ‘ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে’। সেখানে তাকে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক পেশার শীর্ষ স্থানীয় সর্বসস্তরের নারী-পুরুষ পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চোখের জলে বিদায় জানায় তাকে। সোয়া ১১টায় শিল্পীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্দেশে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মহৎ ব্যক্তিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন ভাষাসৈনিক কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী, হুইল চেয়ারে চড়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে এসেছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ নির্মল সেন। শ্রদ্ধা জানান আনিসুজ্জামান, মুস্তাফা মনোয়ার, হাশেম খান, কামাল লোহানী, কলিম শরাফী, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, মুনতাসীর মামুন, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, আসাদুজ্জামান নূর, অধ্যাপক মনসুর মুসা, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, শিল্পী সুবীর নন্দী, নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের, সারা যাকের, ম. হামিদ, সাংবাদিক বজলুর রহমান, এডভোকেট সুলতানা কামাল, আবেদ খান, ফকির আলমগীর, রফিকুন্নবী, ইফফাত আরা দেওয়ান, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, গোলাম কুদ্দুস, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ সেলিমসহ দেশের বহু মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান।
ওয়াহিদুল হকের মৃত্যুদিন ও জন্মদিন উপলক্ষে ছায়ানট প্রতি বছর ২৭শে জানুয়ারি ও ১৬ই মার্চ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তাঁর হাতে গড়া আবৃত্তি সংগঠন 'কণ্ঠশীলন' প্রতি বছর ২৭শে জানুয়ারি ও ১৬ই মার্চ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এছাড়াও ‘কণ্ঠশীলন’ প্রতি ২ বছর পরপর তাঁর জন্মদিন ঘিরে ৩ দিনব্যাপী ‘ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোৎসব’ এর আয়োজন করে।
বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ প্রতিবছর ‘ওয়াহিদুল হক শিশু-কিশোর আবৃত্তি উৎসব ‘এর আয়োজন করে।
আবৃত্তির সংগঠন ‘সংবৃতা’ প্রতিবছর ওয়াহিদুল হক আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।

এভারেস্ট বিজয়ী এম.এ. মুহিতকে কণ্ঠশীলন সংগঠনের জীবন সদস্যপদ প্রদান



২২শে জুলাই ২০১১ শুক্রবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে সাহিত্যের বাচিক চর্চা ও প্রসার প্রতিষ্ঠান কণ্ঠশীলন এভারেস্ট বিজয়ী এম.এ. মুহিতকে সম্বর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক পাখি বিশেষজ্ঞ ও মাউন্টেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও এভারেস্ট অভিযানের উদ্যোক্তা ইনাম আল হক। এভারেস্ট বিজয়ী এম.এ. মুহিত প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে ভ্রমণ করতে করতে এক সময় পাহাড় জয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। এভারেস্ট বিজয়ের লক্ষে তিনি ২০০৩ সাল থেকে অবিরাম চেষ্টা করে অবশেষে ২০১১ সালে অর্জিত সাফল্যের ধারাবাহিক ও দুঃসাহসিক অভিযানের বিষ্ময়কর অভিজ্ঞতা নিখুঁতভাবে বর্ণনা করেন। কণ্ঠশীলনের সকল সদস্য, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং উপস্থিত দর্শকশ্রোতা গভীর আগ্রহ নিয়ে তার বিজয়ের কাহিনী মুগ্ধ হয়ে শোনেন।
বীরত্বপূর্ণ কাজে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করা, ইতিহাস সৃষ্টিকারী কৃতি যুবক এম.এ. মুহিতকে কণ্ঠশীলন সংগঠনের জীবন সদস্য পদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কণ্ঠশীলন প্রশিক্ষক গোলাম সারোয়ার।

শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১১

নির্বাচিত কবির সুনির্বাচিত কবিতার আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘স্বগত সংলাপ’


সাহিত্যের বাচিক চর্চা ও প্রসার প্রতিষ্ঠান কণ্ঠশীলন এর আয়োজনে নির্বাচিত কবিদের সুনির্বাচিত কবিতার আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘স্বগত সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫শে আষাঢ় ১৪১৮ / ৯ই জুলাই ২০১১ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি, শাহবাগ, ঢাকায়।


আপনি সবান্ধব আমন্ত্রিত।