মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১২

কণ্ঠশীলন পরিচালিত শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তিশিক্ষার সপ্তসপ্ততিতম (৭৭) আবর্তন শুরু হচ্ছে


শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তিশিক্ষার সপ্তসপ্ততিতম (৭৭) আবর্তন শুরু হচ্ছে। ৪ মাসের এই কোর্সের ক্লাস প্রতি শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১২.৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের দোতলায়।
প্রশিক্ষক হিসাবে থাকবেন - সনজীদা খাতুন, আবুল মোমেন, মীর বরকত, গোলাম সারোয়ার, এনায়েত কাজল এবং জহিরুল হক খান।

আবেদনপত্র পাওয়া যাবে ২৯শে নভেম্বর পর্যন্ত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের তিন তলায়
শুক্রবার বাদে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
এবং
মর্মর
১৪ আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা
মঙ্গলবার বাদে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা।

সাক্ষাতকার - ৩০শে নভেম্বর, শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের দুই তলায় সকাল ৯টায়।

যোগাযোগ : ০১৫৫২৩২৭৩০৫, ০১৭৩০০৩৯০৯০, ০১৭১৭৪৩৭৪৫৫, ০১৯৭০০৩৯০৯০

রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১২

শুদ্ধ উচ্চারণ বিষয়ক বক্তৃতা : শ, স ও ষ এর সূত্র - অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস

পর্ব : ৭

এবার ব্যঞ্জন বর্ণের উচ্চারণ শুরু হলো :
আজ শ, স ও ষ এর সূত্র

নির্ধারিত সময়ের একটু পরেই এলেন স্যার। কেন যেন বেশ বিমর্ষ দেখাচ্ছিল তাঁকে। চেয়ারে বসে নিরাবেগে দৃষ্টি মেলে ধরলেন সামনের দিকে। তপন বেশ করিৎকর্মা ছেলে, সবকিছুর খবরাখবর ভালই রাখে। চট্ করে জিজ্ঞেস করলো, স্যার, আপনি নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ম্লান মুখে ফুটে উঠলো হাসি, বললেন, শরীরের উপর বেশী ধকল গেলেতো তাড়াতাড়ি বিকল হবেই। এতো হলো একটি যন্ত্র। কেবল মন্ত্র দিয়েতো আর চালানো যায় না। আরাম যদি হারাম হয়, ব্যারামতো তখন ধরবেই। স্যারের জোড়ায় জোড়ায় কথা চলতে থাকতো আরো কিছুক্ষণ। কিন্তু রাজশাহীর মিলন ফস্ করে জানতে চাইলো, স্যার, এখন আপনার সরীর ভালো তো? হো হো হাসির ছররা বয়ে গেলো ক্লাসে। এদিক ওদিক তাকিয়ে ক্রোধান্বিত মিলন বসে পড়লো।
হাসি থামতেই স্যার শুরু করলেন, বাঙলায় তিনটি শ আছে। তালব্য, মুর্ধণ্য এবং দন্ত্য। তিনটি শ এর রূপ আলাদা হলেও বাঙলা ভাষায় একটিই শ (Sh) উচ্চারিত হয় প্রধানত মূলধ্বনি হিসেবে। তবে কোথাও কোথাও শ (Sh) কিন্তু স (S) এর মতো উচ্চারিত হয়।
সেটা কোথায় হয়? যখন শ সহধ্বনি হয়ে যায় অর্থাৎ অন্যধ্বনির প্রভাবে সেই শ টা স এর মতো হয়ে যায়। ত, থ, ন, র, ল এইসব দন্ত্য বা দন্ত্যমূলীয় বর্ণের সঙ্গে স বা শ যখন সংযুক্ত অবস্থায় উচ্চারিত হয়, তখন তার উচ্চারণ হয়ে যায় রীতিমতো স (S) এর মতো। যেমন :
মস্ত - মস্তো
সমস্ত - শোমোস্তো
দরখাস্ত - দরখাস্তো
বরখাস্ত - বরখাস্তো
প্রস্তুতি - প্রোস্তুতি
ব্যস্ত - ব্যাস্তো
গ্রস্ত - গ্রোস্তো
মস্তক - মস্তোক
বস্তি - বোস্তি
আস্তে - আস্তে
রাস্তা - রাস্তা
খাস্তা - খাস্তা
নাস্তা - নাস্তা
কাস্তে - কাস্তে
দস্তা - দসতা
কুস্তি - কুস্তি
দোস্তি - দোস্তি
বন্দোবস্ত - বন্দোবস্তো
ধস্তাধস্তি - ধস্তাধোস্তি
খিস্তি - খিস্তি
সুস্থ - শুস্থো
আস্থা - আস্থা
স্থিতি - স্থিতি
উপস্থিত - উপোস্থিত্
অস্থাবর - অস্থাবর
মুখস্ত - মুখোস্তো
ব্যবস্থা - ব্যবোস্থা
স্থান - স্থান
স্নান - স্নান (Snan)
স্নেহ - স্নেহো (Sneho)
স্নিগ্ধ - স্নিগ্ধ (Snigdho)
স্নায়োবিক - স্নায়োবিক (Snayobic)
অশ্লীল - অস্লীল
শ্লেষ - স্লেস (Slesh)
শ্লোক - স্লোক (Sloke)
শ্রোতা - স্রোতা (Srota)
শ্রবণ - স্রবন (Srobon)
শৃগাল - সৃগাল (Sreegal)
শৃঙ্গ - সৃংগো (Sreengo)
শ্রাবণ - স্রাবোন (Srabon)
শ্রীলঙ্কা - স্রীলংকা (Sreelonka)
শ্রীমান - স্রীমান (Sreeman)
প্রশ্ন - প্রোস্নো
শ্রদ্ধা - স্রোদ্ধা (Sroddha)
শ্রেয়সী - স্রেয়োশি (Sreyoshi)
বিশ্রী - বিস্স্রি
শ্রেষ্ঠ - স্রেশ্ঠো (Sreshtho)
সংশ্লিষ্ঠ - শঙস্লিশ্টো (Shongslishto)
শ্লাঘা - স্লাঘা (Slagha)
শ্লথগতি - স্লথোগোতি (Slothogoti)
এতগুলো উদাহরণ স্যার সহজে দেন না। আজ কেন জানি উন্মানা হয়ে নাকি অসুস্থ শরীরে জেদ চেপে যাওয়ায় একনাগাড়ে উদাহরণগুলি দিয়ে ধপ্ করে চেয়ারে বসে পড়লেন। লাল রঙা চায়ের গ্লাসের দিকে লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে গা এগিয়ে দিলেন চেয়ারের পিছনে।
মিনা মিন্মিন্ করে বললো, স্যার ঞ্জ এবং জ্ঞ এর উচ্চারণ সস্পর্কে কিছু বলবেন কি? হতাশার ভাব বজায় রেখেই গাম্ভীর্যের সাথে ধীরে ধীরে উচ্চারণ করলেন, ঞ এর সাথে জ যুক্ত হয়ে ঞ্জ যুক্তধ্বনি তৈরী হয়। এতে ঞ এর উচ্চারণ ন এর মতো হয়, কিন্তু জ এর উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যেমন :
ভঞ্জ - ভন্জো
রঞ্জ - রন্জো
গঞ্জিত - গোন্জিতো
ব্যঞ্জন - ব্যান্জোন্
খঞ্জনা - খন্জোনা
অঞ্জনা - অন্জোনা
একটু টেনে দম নিয়ে শুরু করলেন ফের।
জ এর সাথে ঞ যুক্ত হয়ে জ্ঞ যুক্তধ্বনি তৈরী হয়। শব্দের আদিতে জ্ঞ এর উচ্চারণ সাধারণত গঁ বা গ্যঁ এর মতো এবং শব্দের মধ্যে ও অন্তে গ্গঁ এর মতো হয়। যেমন :
জ্ঞাত - গ্যাঁতো
জ্ঞান - গ্যাঁন
জ্ঞাপক - গ্যাঁপোক্
জ্ঞেয় - গেঁয়ো
বিজ্ঞান - বিগ্গ্যাঁন
বিজ্ঞপ্তি - বিগগোঁপ্তি
অজ্ঞান - অগ্গ্যাঁন
অবজ্ঞা - অবোগ্গাঁ
অজ্ঞ - অগ্গোঁ
বিজ্ঞ - বিগ্গোঁ
দৈবজ্ঞ - দোইবোগ্গোঁ
বিশেষজ্ঞ - বিশেশোগ্গোঁ
মিনা আবার বলে ফেললো, ঞ এর সাথে আর কোনো বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তধ্বনি তৈরী করে কি?
স্যার ঠাণ্ডা গলায় বললেন, হ্যাঁ, চ, ছ, ঝ এই বর্ণগুলিও ঞ এর সাথে যুক্ত হয় এবং জ্ঞ এর মতোই ঞ এর উচ্চারণ ন এর মতো হয়। যেমন-
পঞ্চ - পন্চো
মঞ্চ - মন্চো
লাঞ্ছিত - লান্ছিতো
ঝঞ্ঝা - ঝন্ঝা
ঝঞ্ঝনা - ঝন্ঝোনা
কাঞ্চন - কান্চোন
মিনা আবার যেন কি বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু স্যারের অসুস্থ ও ক্লান্ত শরীরের কথা ভেবে একসঙ্গে বেশ কয়েকবার পিছন থেকে শ্ শ্ শব্দ করে মিনাকে থামিয়ে দিল। চুপ্চাপ্ একটু বসে থেকে বিমর্ষ স্যার আস্তে আস্তে বাইরে চলে গেলেন।

রবিবার, ১ জুলাই, ২০১২

কণ্ঠশীলন পরিচালিত শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তিশিক্ষার ষটসপ্ততিতম (৭৬) আবর্তন শুরু হচ্ছে

 
সাহিত্যের বাচিক চর্চা ও প্রসার প্রতিষ্ঠান কণ্ঠশীলন পরিচালিত শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তিশিক্ষার ষটসপ্ততিতম (৭৬) আবর্তন শুরু হচ্ছে। ৪ মাসের এই কোর্সের ক্লাস প্রতি শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১২.৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের দোতলায়।
প্রশিক্ষক হিসাবে থাকবেন - সনজীদা খাতুন, আবুল মোমেন, মীর বরকত, গোলাম সারোয়ার, এনায়েত কাজল এবং জহিরুল হক খান।

আবেদনপত্র পাওয়া যাবে ১২ই জুলাই পর্যন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের তিন তলায়
শুক্রবার বাদে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ৪টা।

মর্মর
১৪ আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা
মঙ্গলবার বাদে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা।

সাক্ষাতকার - ১৩ই জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের দুই তলায় সকাল ৯টায়।

যোগাযোগ : ০১৫৫২৩২৭৩০৫, ০১৭৩০০৩৯০৯০, ০১৭১৭৪৩৭৪৫৫, ০১৯৭০০৩৯০৯০

বুধবার, ২০ জুন, ২০১২

শুদ্ধ উচ্চারণ বিষয়ক বক্তৃতা : এ কোথায় অ্যা এর সূত্র - অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস

পর্ব : ৬

এ কোথায় অ্যা


আজকে নাতিদীর্ঘ সরস বক্তৃতার ঢেউ না তুলে ভূমিকাপর্বটি একটু পাল্টে ফেললেন যতীন স্যার। একবার জোরে ‘এ’ বলোতো। পেটের থেকে আওয়াজ বেরিয়ে দেওয়ালে মেঝেতে ধাক্কা খেয়ে কেঁপে উঠলো ঘর। দাড়িগোঁফের ফাঁক গলিয়ে খুশীর ঝিলিক ছড়িয়ে পড়লো স্যারের মুখে। সেটা ধরে রেখেই বললেন, এবার তোমরা ‘অ্যা’ বলোতো ওরকম জোরের সাথে। মূহুর্তে সারা ঘর প্রকম্পিত হলো ‘অ্যা’ ধ্বনিতে।
নাক কুঁচ্কে প্রশ্ন করলেন, তোমরা কয়টি বর্ণ উচ্চারণ করলে বলতে পারবে? ফস্ করে মিনা বলে উঠলো, স্যার দুটো বর্ণ। হেসে ফেললো অনেকেই। জহির কুণ্ঠাভরে বললো, না স্যার, বর্ণ একটিই। তবে ধ্বনি দুটো। একবার ‘এ’-এর মতো করে আরেকবার ‘অ্যা’-এর মতো উচ্চারণ করলো। খুব খুশী হলেন স্যার। সামনে এগিয়ে এসে জহিরের পিঠ চাপ্ড়ে বলতে লাগলেন, বাঙলা স্বরবর্ণে ‘এ’ নামে একটিমাত্র স্বরবর্ণ আছে। কিন্তু তার দুটি উচ্চারিত রূপ আছে। কোথাও ‘এ’ বর্ণটি ‘এ’-এর মতোই অবিকৃত উচ্চারণ হয়। কিন্তু কোথাও কোথাও ‘অ্যা’-এর মতো উচ্চারিত হয়। যেমন : এক (অ্যাক) কিন্তু একটি (এক্টি)। এজন্য ‘এ’ এর উচ্চারণের ব্যাপারে প্রায়শই বিভ্রান্তি দেখা দেয়। ‘অ্যা’ আমাদের উচ্চারণে আছে, বচনে আছে, কথায় আছে, কিন্তু লেখায় নেই। তাই সমস্যা থাকবেই, তবে ‘এ’-এর উচ্চারণের বিষয়ে পাকাপোক্ত কোন বিধি বা নিয়ম আমাদের জানা নেই। কিন্তু বোঝার সুবিধার জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু সাধারণ সূত্র বা নিয়ম আমরা দাঁড় করাতে পারি।

সূত্র এক : এ-কারের পরে যদি ই-কার, উ-কার কিংবা এ-কার থাকে, তাহলে সাধারণত পূর্বের এ-কার বিকৃত হয় না বা অ্যা-কার রূপে উচ্চারিত হয় না। যেমন
খেলা (খ্যালা) কিন্তু খেলি (খেলি)
বেলা (ব্যালা) কিন্তু বেলি (বেলি)
ঠেলা (ঠ্যালা) কিন্তু ঠেলি (ঠেলি)
দেখ (দ্যাখ) কিন্তু দেখি (দেখি)
দেখা (দ্যাখা) কিন্তু দেখুন (দেখুন)
এক (অ্যাক্) কিন্তু একটি (এক্টি)
একটা (অ্যাক্টা) কিন্তু একটু (একটু)
টেংরা (ট্যাংরা) কিন্তু টেংরি (টেংরি)
লেংড়া (ল্যাংড়া) কিন্তু লেংড়ি (লেংড়ি)
ভেংচানো (ভ্যাংচানো) কিন্তু ভেংচি (ভেংচি)
গেছে (গ্যাছে) কিন্তু গেছি (গেছি)
একটানা উদাহরণগুলো বলে একটা পান মুখে দিলেন স্যার। চোখ-বন্ধ করে চুক্ চুক্ শব্দ তুলে এক মনে চিবোতে থাকলেন পান। নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে বন্যা বললো : এ-কারের পরে এ-কার দিয়ে কোন উদাহরণ তো দিলেন না স্যার। ধ্যান ভেঙ্গে চোখ্ মেলে তাকালেন। তড়াক করে উঠেই দুলে দুলে হাঁটতে হাঁটতে বলতে লাগলেন, এ যে মেয়ে সেজে এসেছে। বন্যা তখনো বসে নি। দাঁড়িয়েই বললো, স্যার আর বলতে হবেনা। একেবারে এ-কারের বন্যা বয়ে গেছে। হাল্কা হেসে বললেন স্যার, এ-কার অ্যা-কার মিলিয়ে একটা বাক্য এবার তুমি বলো। সপ্রতিভ বন্যা সাথে সাথেই বলে ফেললো, সকাল বেলায় (ব্যালায়) খেয়ে এসেছি টেংরা (ট্যাংরা) মাছের ঝোল। হাসির বন্যার মাঝে তলিয়ে গেল বন্যার গলা। পরে কি যেন বললো শুনতে পাওয়া গেল না।

সূত্র দুই : ধাতু (ক্রিয়ার মূল) কিংবা প্রতিপাদিকে (শব্দের মূল) ই-কার কিংবা ঋ-কার ছিল, পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে সেই ই-কার কিংবা ঋ-কার একবার এ-কার পরিণত হলে, আর কখনো কোন অবস্থাতেই সেই এ-কার অ্যা-কারান্ত উচ্চারিত হবে না।
যেমন :
কিন্ থেকে কেনা কিন্তু ক্যানা নয়
মিল্ থেকে মেলা কিন্তু ম্যালা নয়
লিখ্ থেকে লেখা কিন্তু ল্যাখা নয়
গিল্ থেকে গেলা কিন্তু গ্যালা নয়
মিশ্ থেকে মেশা কিন্তু ম্যাশা নয়
জিলা থেকে জেলা কিন্তু জ্যালা নয়
শিখ্ থেকে শিখা কিন্তু শ্যাখা নয়
মিষ্ থেকে মেষ কিন্তু ম্যাষ নয়
পিট্ থেকে পেটা কিন্তু প্যাটা নয়
রিচ্ থেকে রেচক্ কিন্তু র‌্যাচক নয়
লিহ্ থেকে লেহন্ কিন্তু ল্যাহন্ নয়
বিদ্ থেকে বেদ্ কিন্তু ব্যাদ নয়
নী থেকে নেতা কিন্তু ন্যাতা নয়
দিশ্ থেকে দেশ্ কিন্তু দ্যাশ নয়
মিদ্ থেকে মেদ্ কিন্তু ম্যাদ নয়
চিল্ থেকে চিল্লানো কিন্তু চ্যাল্লনো নয়
মিরাজ্ থেকে মেরাজ্ কিন্তু ম্যারাজ্ নয়
কিতাব্ থেকে কেতাব্ কিন্তু ক্যাতাব নয়
সিতার থেকে সেতার কিন্তু স্যাতার নয়
বিতার থেকে বেতার কিন্তু ব্যাতার নয়
মিজাজ্ থেকে মেজাজ্ কিন্তু ম্যাজাজ্ নয়
ইন্সাফ্ থেকে এন্সাফ্ কিন্তু অ্যানসাফ্ নয়
বিয়াদব্ থেকে বেয়াদব্ কিন্তু ব্যায়াদব নয়
বিতমিজ্ থেকে বেতমিজ্ কিন্তু ব্যাতমিজ্ নয়
ইনামুল্ থেকে এনামুল্ কিন্তু অ্যানামুল নয়
ইবাদত্ থেকে এবাদত্ কিন্তু অ্যাবাদত নয়
নৃপাল্ থেকে নেপাল্ কিন্তু ন্যাপাল নয়
গরম চা কখন রাখা হয়েছিল এতক্ষণ খেয়াল করেন নি স্যার। হঠাৎ দেখতে পেয়ে থেমে গেলেন তিনি। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে বাম হাতে চায়ের গ্লাস তুলে নিয়ে সুখ সুখ ভাব করে দিলেন লম্বা চুমুক। গ্লাসের অর্ধেক শেষ করে ঘুরে দাঁড়ালেন আবার। চা ঠাণ্ডা কি গরম তাতে কিছু আসে যায় না কখনো। গ্লাস ধরেই শুরু করলেন ফের।

সূত্র তিন : সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ অর্থাৎ তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ শব্দে এ-কারান্ত থাকে। কারণ সংস্কৃতে অ্যা নামক কোন ধ্বনি নেই।
যেমন
প্রেম্ কিন্তু প্র্যাম নয়
বেদ্ কিন্তু ব্যাদ নয়
মেদ্ কিন্তু ম্যাদ নয়
রেবা কিন্তু র‌্যাবা নয়
বেত্র (বেত্ত্রো) কিন্তু ব্যাত্ত্র নয়
মেধা কিন্তু ম্যাধা নয়
সেতু কিন্তু স্যাতু নয়
মেরু কিন্তু ম্যারু নয়
ধেনু কিন্তু ধ্যানু নয়
কেয়ূর কিন্তু ক্যায়ুর নয়
প্রেরক কিন্তু প্র্যারক নয়
তেজ কিন্তু ত্যাজ নয়
হেমন্ত (হেমন্তো) কিন্তু হ্যামন্তো নয়
বেগ্ কিন্তু ব্যাগ নয়
পেচক্ কিন্তু প্যাচক নয়
বেতস্ কিন্তু ব্যাতস নয়
কেতন্ কিন্তু ক্যাতন নয়
কেদার কিন্তু ক্যাদার নয়
চেতনা (চেতোনা) কিন্তু চ্যাতনা হয়
তেজস্বী (তেজোশ্শি) কিন্তু ত্যাজস্বী নয়
দেবকী (দেবোকী) কিন্তু দ্যাবকী নয়
দেবর্ষি (দেবোরসী) কিন্তু দ্যাবরসি নয়
বেনী (বেনী) কিন্তু ব্যানী নয়
ভেদ্দ (ভেদ্দো) কিন্তু ভ্যাদ্দো নয়
মেদিনী (মেদিনী) কিন্তু ম্যাদিনী নয়
মেনকা (মেনোকা) কিন্তু ম্যানকা নয়
রেবতী (রেবোতী) র‌্যাবতী নয়
শেখর (শেখর) কিন্তু শ্যাখর নয়
সেবক (সেবক) কিন্তু স্যাবক নয়

(চলবে)

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১২

শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তিশিক্ষার ষটসপ্ততিতম (৭৬) আবর্তন শুরু হচ্ছে

 শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তিশিক্ষার ষটসপ্ততিতম (৭৬) আবর্তন শুরু হচ্ছে। ৪ মাসের এই কোর্সের ক্লাস প্রতি শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১২.৩০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের দোতলায়।
প্রশিক্ষক হিসাবে থাকবেন - সনজীদা খাতুন, আবুল মোমেন, মীর বরকত, গোলাম সারোয়ার, এনায়েত কাজল এবং জহিরুল হক খান।

আবেদনপত্র পাওয়া যাবে ১২ই জুলাই পর্যন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের তিন তলায়
শুক্রবার বাদে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ৪টা।

মর্মর
১৪ আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা
মঙ্গলবার বাদে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা।

সাক্ষাতকার - ১৩ই জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের দুই তলায় সকাল ৯টায়।

যোগাযোগ : ০১৫৫২৩২৭৩০৫, ০১৭৩০০৩৯০৯০, ০১৭১৭৪৩৭৪৫৫, ০১৯৭০০৩৯০৯০

শুক্রবার, ৯ মার্চ, ২০১২

ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোৎসব ২০১২ / ১৫, ও ১৬ই মার্চ, ২০১২ কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে (১ম-৭৪তম আবর্তন), সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর সহযোগে সঙ্গীত, নাটক, আবৃত্তি ও সাহিত্যানুরাগী, সকল সংস্কৃতিকর্মীকে নিয়ে

অভয় বাজে হৃদয় মাঝে
সুধী, হাজার বছরের বাংলা ভাষা নিয়ে বাঙালি যেমন গর্বিত তেমনি সেই ভাষাকে এক মান ভাষায়, এক সাহিত্যের ভাষায় পৃথিবীময় ছড়িয়ে দিতেও বাংলাভাষী আজ বদ্ধপরিকর। আজকের দিনে সকল বাংলাভাষা প্রেমীকে আহবান করি, আসুন যুথবদ্ধ হয়ে আরও একবার মাতৃভাষার পাশে দাঁড়াই, মমতাময়ী বাংলাকে অনুপুঙ্খ মর্যাদাদানে একাত্ম হই। কণ্ঠশীলন তার জন্মাবধি এই প্রয়াস করে যাচ্ছে আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গী হয়ে। কণ্ঠশীলন গত ঊনত্রিশ বছর ধরে কেবল সুবাচনের পাঠেই অংশ নিচ্ছে এমন নয়, বাংলা ভাষার বড় কবি, সাহিত্যিকদের সঙ্গে নিবিড় এবং বিশদ পরিচয়সহ জীবনকর্মে তার প্রভাব ঘটিয়ে চলেছে। আর এ ভাবেই গড়ে উঠেছে বৃহৎ কণ্ঠশীলন পরিবার, ছয় হাজারেরও অধিক সদস্যের। আগামী ১লা ও ২রা চৈত্র ১৪১৮ / ১৫ ও ১৬ই মার্চ ২০১২, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার, শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি, শাহবাগ, ঢাকায় দেশময় ছড়িয়ে থাকা এই দীক্ষিত ভাষা-সেবক ও আবৃত্তি প্রেমীদের নিয়ে কণ্ঠশীলন উদযাপন করতে যাচ্ছে ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোৎসব। দুই দিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে প্রথম দিন বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায়। উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাঁদের উপস্থিতির সদয় সম্মতি পেয়েছি: সনজীদা খাতুন- সভাপতি, ছায়ানট, শিক্ষাবিদ, সঙ্গীতজ্ঞ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ - সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট রামেন্দু মজুমদার - সভাপতি,বিশ্বনাটক আসাদুজ্জামান নূর - সভাপতি, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ লিয়াকত আলী লাকী - সভাপতি,বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন হাবিব উল্লা সিরাজী - সভাপতি, জাতীয় কবিতা পরিষদ আপনিও সবান্ধব আমন্ত্রিত। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী সভাপতি, কণ্ঠশীলন