শনিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১১

বাকশিল্পী নরেন বিশ্বাস স্মরণ ও নরেন বিশ্বাস পদক ২০১১ প্রদান অনুষ্ঠান ২৭শে নভেম্বর, সন্ধ্যা ৬।৩০ মিনিট, পাবলিক লাইব্রেরি, শাহবাগ


সুধী

বাকশিল্পী নরেন বিশ্বাস আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালবাসার মানুষ ছিলেন, আজো আছেন স্মৃতিতে এবং তাঁর রেখে যাওয়া কর্মযজ্ঞের ভিতর। আগামী ২৭শে নভেম্বর, ২০১১ রবিবার তাঁর প্রয়াণ দিবসে প্রতিবারের মত কণ্ঠশীলন স্মারণিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি, শাহবাগ, ঢাকায় সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায়। অনুষ্ঠানের প্রধান বিষয় ‘নরেন বিশ্বাস পদক’ ২০১১ প্রদান। পদকের জন্য এবার মনোনীত হয়েছেন আবৃত্তি জগতে অর্ধশতাব্দীকালের পথ-পরিক্রমায় যাঁর উপস্থিতি যতিহীন, শিল্পী ও অন্যতম সংগঠক তারিক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ। 

সকল সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ, বিশেষ করে আবৃত্তিকর্মে যুক্ত ও উৎসাহী সকলের প্রতি আমাদের আন্তরিক আমন্ত্রণ আসুন- আমরা মিলিত হই বাকশিল্পীর স্মৃতি-তর্পণে যাঁর জীবন ও মৃত্যুর বিষয় ছিল বাংলা ভাষার শিল্পময় উচ্চারিত রূপ। বাঙালিকে বাঙালির আপন ভাষাকে সত্য করে সুন্দর করে পেতেই হবে। বাংলাকে পাবার সাধনায় নরেন বিশ্বাসের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিতভাবে তাঁকে স্মরণ করা, তাঁর কর্মকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এইতো সময়।

শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী
সভাপতি

বাংলা ভাষা আজ বিপদের মধ্যে (সংযোজন কথন)- লেখকের মন্তব্য


মূল লেখার লিংক


সম্মানিত পাঠক,
অন লাইনে দেয়া আমার ”বাংলা ভাষা আজ বিপদের মধ্যে” লেখাটিকে নিয়ে আপনাদের ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য আমি অত্যন্ত বিনতভাবে গ্রহণ করেছি এবং তা নিয়ে আমার পরবর্তী সময়ের কিছু ভাবনা আজ এখানে যুক্ত করছি। তবে আমার এ প্রতিক্রিয়া প্রকাশের অনিবার্য দেরীতে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি আপনাদের সকলকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই যাঁরা এ লেখাটি ধৈর্য নিয়ে পড়েছেন এবং আপনাদের যথার্থ মতামত প্রদান করেছেন। ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আপনাদের কাছে আরো পাব বলেই বিশ্বাস করি । 
মিনহাজ আহমেদ, হুসাইন আল মামুন, ফেনা, সুপ্ত চিন্তা, লাল গাছ, পলাশ মিঞা, রশীদ জামিল, এ.বি.এম মহসীন, জহিরুল ইসলাম, কেশোয়ারা সুলতানা, ইনছানুর, দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, কে.এম.ওমর ফারুক, প্রাজ্ঞজন, প্রামাণিক জালাল উদ্দিনসহ আপনাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই ।(কাউকে কাউকে তুমি সম্বোধন করতে পারলে ভাল লাগত কিন্ত আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনে সর্বজনগ্রাহ্য শব্দ ব্যবহার করা যৌক্তিক, ব্যক্তি যতই স্নেহের হোক।) 

ঠিক এই সময়ে আমরা নাগরিকরা সর্বাধিকভাবে তিনটি চাপের মধ্যে নিজেদেরকে সমর্পন করতে বাধ্য হয়েছি যথা যানচাপ, জনচাপ ও কর্মচাপ। এই ত্রয়ীচাপকে মোকাবেলা করতে আমরা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছি, অমানবিক হতে হতে যান্ত্রিক হয়ে পড়েছি। অন্যকারো ধাক্কাতে নয়, নিজেই নিজেকে যান্ত্রিক করেছি বা মেনেছি বলে। হার মেনেছি সময়ের কাছে, আন্তরিকতার কাছে, মায়া-ভালবাসার কাছে কারণ জয়ী হিসাবে নিজেকে দেখতে চাই বলে। ভীড়ের মধ্যে নিজেকে চিনে নিতে চাই বলে। এই জয়ী হওয়ার বাসনা মনুষ্যজাতির রোমে রোমে চিরপ্রথিত। যেদিন থেকে মানুষ নিজেকে নিজেই শ্রেষ্ঠ ভাবতে শিখল, যেদিন থেকে মানুষ অন্যকে নিজের নিচে দেখার বাসনা তৈরি করল। সেদিন থেকে জয়কে পাওয়া, জয়কে ছোঁয়া মানুষের একটি বড় কাজ হয়ে দেখা দিল। তবে জয় সেতো খারাপ নয়। জয়ী হওয়ার বাসনায় কোন অন্যায় নেই। সে জয় সত্য পথে থেকে আসুক। দাম্ভিক মুক্ত হয়ে আসুক। অন্যকে ক্ষতি না করে, অন্যকিছুকে ক্ষতি না করে ও আইনসিদ্ধ হয়ে আসুক আমরা তাকে সাদরে গ্রহণ করব। জয় পরাজয়ে আরেকটি বিষয় বলা খুব জরুরি যে, পৃথিবীর তাবৎ বিষয়কে জয় পরাজয় দিয়ে দেখতে চাওয়ার মধ্যে বিজ্ঞান নেই, যুক্তি নেই, যথাযথও নয়। এই চাওয়ার মধ্যে আরো বড় ধরণের যান্ত্রিকতার গন্ধ থাকে, সন্ধান থাকে। আমাদের মুখের ভাষা, পবিত্র এক অধ্যায় - জন্মদাত্রী মা থেকে পাওয়া। তার ভাল মন্দ নিয়ে তর্ক করা যাবে না এমন অনাধুনিক এবং অশিক্ষিত প্রকাশ আমার কাম্য নয়, সে দলেরও আমি নই। অগ্রসর হতে হবে যতটা জয় পরাজয় দিয়ে, তারও চেয়ে বেশী গভীরতা দিয়ে, বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ও অধ্যয়ন-অধ্যবসায় দিয়ে, ভালবাসা দিয়ে কারণ ভাষা তো কেবল তলোয়ার খেলা নয় কিংবা বাকযুদ্ধও নয়। 
ভাষার ভিতরে বাস করেও আমরা এখন পর্যন্ত ’ভাসা ভাসা’ থেকে গেলাম। তাতে ক্ষতি নেই, জীবন-যাপনে বাধাও নেই। সমাজে-রাষ্ট্রে চলতে, চালাতে কোথাও অসুবিধা নেই। শিক্ষা ক্ষেত্রে, কর্ম ক্ষেত্রে, সাংসরিক ক্ষেত্রে, প্রেম-ভালবাসা-বিয়ে কোথাও তার আবশ্যকতা নেই। অন্তত রাষ্ট্র সেরকম হয়ে উঠেনি বা সেই রকম শিক্ষার ব্যবস্থা রাষ্ট্র এখনও ভাবতে পারেনি। তাতে কী, কথাটা হলো যিনি ক্ষতি মনে করবেন তিনি প্রয়োজনও মনে করবেন, তিনি এগিয়ে আসবেন, তিনিই ভাষাকে ভাসা থেকে গভীরে নিয়ে যাবেন। ব্যক্তি হোক কিংবা সংগঠন হোক এই চাওয়া একা তার কারণ তারই যে প্রয়োজন। বড় বিচিত্র এই হিসাব। যে হিসাবে রাষ্ট্র নিজেকে সেই দায়িত্বের বাইরের বলেই ভাবতে পারছে। নইলে বাংলা আজ খোদ তার দেশেই এত হতাদর কেন ? 
এখানে দুটো দিক কিংবা ভিন্নতা স্পষ্ট। রাষ্ট্র এবং ব্যক্তির চাওয়া পাওয়া। ভাষাকে গ্রহণযোগ্য পথে চলার রীতিনীতি ব্যক্তির করা সম্ভব নয় ফলে তা প্রয়োগের সম্ভবনার প্রশ্নই আসে না। যা চলছে যেভাবে চলছে তা ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের চেষ্টার ফসল। যা আগেও ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। অতএব ব্যক্তি মানুষকে ধরে ভাষার আশা নিরাশাকে এগিয়ে নিতে হবে। ফলে শেষ পর্যন্ত ব্যক্তির কাছে আবেদন -নিবেদন করতে হবে।
মনের সঙ্গে ঝুঝতে হবে সবার আগে যে, ভাষার সৌন্দর্য কতটা গ্রহণীয়, কতটা প্রয়োজন ,কতটা মানা চাই, কতটা মানা উচিৎ! ব্যক্তির সঙ্গে ভাষার সম্পর্ক কিভাবে- ভালবাসা-মায়ার নাকি ঔদাসীন্য কিংবা শত্রুতার! আদৌ কোন সম্পর্কবোধ মনে হয় কী-না ! যদিও ব্যক্তির ভাষা প্রকাশের ধরণে বোঝা যাবে ঐ ব্যক্তির সঙ্গে ভাষার সম্পর্ক কীরকম বা কতটা গভীর এবং বোঝা যাবে ভাষা তার কাছে কতটা আপন ! অবশ্য এটি পরিষ্কার বুঝতে চাইলে ভাষার একেবারে কাছে যেতে হবে তার ব্যবহারিক উপায় নিয়ে । বাংলার কথোপকথন, শব্দের উচ্চারণ, শব্দের বানান যে কোন ধরণের প্রকাশের মধ্য দিয়ে। ভাষার কোথাও কোন ধরণের প্রকাশে ভুল হলে আঘাত পাওয়া, অবসন্ন হওয়া, ব্যথা অনুভূত হওয়ার মধ্যে ভাষার সঙ্গে ভালবাসা, সুসম্পর্ক ফুটে ওঠে। এইটি বুঝতে ভাষাবিদ্ হতে হয় না, এক বস্তা সার্টিফিকেটও লাগে না - মন থাকতে হয়, গর্ব থাকতে হয়, দাবী থাকতে হয় । নিজেই বুঝে নিতে পারি নিজের কাছে। সত্যি সত্যি নিজের প্রতিক্রিয়া কীরকম হয়। সেখানে তো আর ফাঁকি নেই। আমি আমাকে ফাঁকি দেয়ার কী মানে ! যেখানে আমার ভালবাসা, আমার শ্রদ্ধা এবং আমার মায়ের স্বরূপ সন্ধানে ব্যাপৃত আমি। যেখানে চেতনায় নিঃস্বার্থ আরাধ্য কেবল। তার আগে বা পরে আর কিছূ থাকতে নেই, কিছু থাকতে পারে না। কেবল অনুভব, কেবল মুক্তির স্বাদ। কিন্তু মুক্তি অত সোজা নয় কারণ যখন যুক্তি এসে দাঁড়ায় আরো শক্ত হয়ে, অন্য কোন পোষাকে অন্য কোন ছায়ায়, অন্য কোন ভাবনা নিয়ে। যুক্তি এমনি এমনি আসে না তারও অনেক কারণ থাকে। ভাষাকে যখন কেউ ব্যবহার করতে চায় অন্যভাবে, ভাষাবেশী হয়ে। সুবিধাবাদী হয়ে, ব্যবসায়ী হয়ে, সাংস্কৃতিক কর্মী হিসাবেই কিংবা আধুনিকতার অন্য কোন পথ ধরে, সেই ব্যবহারের পক্ষে যুক্তি তৈরি করবেন ব্যবহারকারী অবশ্যই। তখনই তৈরি হয় আর অনেক কথা, অন্য মোড়কে সাজিয়ে, গলা বাজিয়ে। যেখানে ভাললাগা আর ভালবাসা খেই হারিয়ে ফেলে। যিনি ভাষাকে সুবিধায় বা ব্যবসায় নিয়ে ব্যবহার করছেন না তার বলবার কথা তখন আর থাকে না। কারণ ভাষার মধ্যেও দখলদারিত্ব থাকে সেটি সম্পন্ন হলে তখন করার কিছু থাকে না। যিনি লিখতে, পড়তে, বলতে ভুল করছেন না বা করতে চাইছেন না তার কোন কথা নেই । তাহলে? যখন ভুল করে চলা নয়, ভুলকে ভুল না বলে চলা। তখন ভুলের পক্ষে সোজা অস্বীকার। অস্বীকার হলেই তাকে প্রতিষ্ঠার জন্য তৈরি হবে অনেক অনেক যুক্তি। তবেই না জয় হবে। তবু ভুল স্বীকার করা অনেকের মত হয়ে, সাধারণ হয়ে থাকা তাদের কার্য নয়। ভুল স্বীকার মানেতো নিজের হাঁটা পথে নিজের বাধা। বরং ভুল অস্বীকার এর পক্ষে থাকবে কঠিন যুক্তি। থাকুক। মনে রাখতে হবে তা কখনও অকাট্য নয় এবং সেখান থেকেই আমাদেরকে সর্বজনীনকে বের করে আনতে হবে । 
একটি কথা খুব বলা হয় য়ে, ভাষা বহমান । নির্জলা সত্যি ! বহমান মানে শুধু চলা নয়, বেঁচে থেকে চলা। যোগ-বিয়োগের চলা হলেও যোগের হার বেশী থাকবে। তাহলেই বাড়বে। তা হচ্ছেও। আজ সারা পৃথিবীতে বাংলা ভাষী প্রায় ২৫ কোটি, সারা পৃথিবীর চতুর্থতম ভাষা। সংস্কৃত ভাষাও চলছে এখনও তবে সেখানে বিয়োগের হার অনেক বেশী। ফলে সংস্কৃত ভাষা আজ কেবল ডিগ্রি পাওয়ার ভাষা, মানুষের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই যার ফলে এই ভাল-মন্দে মানুষের কিছু যায় আসে না। অর্থ্যাৎ বহমান একবারে এমনি এমনি চলা নয়। সেখানে চিন্তা-চেতনা, ভাল-মন্দ,শিক্ষা-দীক্ষা সব যোগ হয়। ভাষার সঙ্গে নদীর উদাহরণ এইকারণে আসে। নদী মানে তার একা চলা নয়, একা থাকা নয়। দেশ-মানুষ-সমাজ সব কিছুকে নিয়ে, সব কিছুর মধ্য দিয়ে নদী। তার ভাঙনে বাধা দিতে হয়, পাশে গাছ লাগাতে হয়, তাকে ড্রেজিং করতে হয়, সেখানে আবর্জনা, তেল ফেলতে নিষেধ করা হয়। অনেক যত্নে একটি নদী বেঁচে থাকে। নদীর উৎসমুখ সমৃদ্ধ থাকতে হয় ।’ উৎসমুখে বাধাপড়ি মোরা পরিক্ষীণ, নষ্টপ্রাণ, গতিশক্তিহীন’- রবীন্দ্রনাথ। তবেই নদী মানুষের কাছে, ব্যবহারীর কাছে, সমাজের বুকে আরো সুন্দর হয়ে ফুটে ওঠে। 
একটা কথা মনে রাখা জরুরি যে, প্রযুক্তির প্রভাব একটা বড় প্রভাব। সেই প্রভাব কেবল ঐ প্রযুক্তিকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়। সেই সময়ের সমাজ ব্যবস্থা, তার মানুষ, তার ভাষা সব কিছুর উপর প্রভাব ফেলবে। ফলে আমাদের এই সময়ে কম্পিউটার, মোবাইল যে ভাষায় গ্রন্থিত এবং পরিচিত সে ভাষার প্রভাব আমাদের ভাষায় পড়বে এটাই সত্যি। প্রযুক্তি থেকে আগত ভাষার এ মিশ্রণকে অস্বীকার যাবে না। সে ক্ষেত্রে কতটা প্রভাবিত হতে পারি সেইটুকু আমাদের বিচার-বিশ্লেষণে আনতে হবে । ভালটুকু অবশ্যই গ্রহণ করব এবং যতটুকু আমাদের ক্ষতি করবে ততটুকু আমাদের বাদ দিতে হবে। ধরা যাক, এই সময়ে আমরা আমাদের টেলিভিশনে অন্তত বিশটা হিন্দি চ্যানেলের অনুষ্ঠান উপভোগ করি । ফলে নিশ্চিত করে বলা যায় যে হিন্দি ভাষা অনেক সময় ধরেই কানে প্রবেশ করে। এর ফলে দেশের বাইরের একটি ভাষা সম্পর্কে আমাদের জানার আগ্রহ তৈরি হতে পারে এবং এই আগ্রহ মেটেই খারাপ কিছু নয়। এই আগ্রহ নিয়ে হিন্দি লেখা-পড়া-জানা চলতে পারে । ভাষা জানার পথে আরো একটি ভাষা যোগ হবে যা অবশ্য গৌরবজনক। কিন্ত লেখা-পড়া-বোঝা এই সমস্ত বাদ দিয়ে যদি আমার বাংলা বাক্যের শব্দের ফাঁকে ফাঁকে একটা করে হিন্দি শব্দ বসিয়ে দিই তাহলে আর ভাষা শিক্ষা হলো না, ভাষাকে সম্মান জানানো হলো না। এমনও শোনা যায় কিছু বাংলা শব্দকে খানিকটা বাঁকা-টেরা করে হিন্দির প্রস্বর ঢুকিয়ে বাংলা বলার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। এখানে দুই ভাষার বারটা বাজলেও নিজের বাংলা ভাষাকে অসম্মান করা হলো বেশী এবং ক্ষতিগ্রস্তও করা হলো যথেষ্ট। উপরন্তু হিন্দি ভাষাটিও লেখা-পড়া-বোঝার বাইরেই থেকে গেল। ইংরেজীতে ভাষা নিয়ে এই খেলা অনেক বেশী শোনা যায়, করতেও দেখা যায়। যেমন তোর বাড়িতে গেলাম বাট তোকে পেলাম না সো চলে এলাম। তাতে কী দাঁড়াল ! একই সঙ্গে বাংলার সর্বনাশ হলো, ইংরেজীও ক্ষতিগ্রস্থ হলো। আর যে ব্যক্তি এই বাক্যটি ব্যবহার করলেন তাঁকেই বা কোন শ্রেণিতে ফেলা যায়। জামা আর পাজামায় পোষাকটা কেমন হলো। 
বাংলা কথায় কিংবা লেখায় অতি স্বাধীনতার ফলে বাংলার অনেক শব্দ আজ বিকলাঙ্গ। এই ক্ষতির মূল্য কে দেবে? উদাহরণ হিসাবে একটি বাক্য বলা যায়,ধরা খাওয়া। এই ব্যবহারকে শিষ্ট ব্যবহার বলা যায় না। অথচ এই ধরণের কথা বলা হচ্ছে। প্রথমে কিছু কিছু ছিল। এখন ঘরে ঘরে পিতা-পুত্রে, মাতা-কন্যায়। এধরণের কথা চালু হতে সময় লাগে না। আরো আগে মেয়েদের দেখে কথা হতমাল যায়। সভ্যজগতের কোন মানুষ এই ব্যবহার করতে পারে? অথচ এই ব্যবহার হয়। শব্দের কোন দোষ নেই অথচ মানুষের কারণে এই শব্দগুলি আজ বিকলাঙ্গ। এই স্বাধীনতা ভোগ করা উচিৎ নয়। কাম্য নয়। তাহলে কোথাও নিয়ম তৈরি হওয়া চাই। আর তা মানতে হবে, মানাতে হবে। তবেই সুস্থ, তবেই শান্তি, তবেই এগিয়ে চলা ।

গোলাম সারোয়ার
উচ্চারণ বিষয়ক প্রশিক্ষক ও নির্দেশক
আবৃত্তি ও নাট্যশিল্পী এবং সংস্কৃতিকর্মী

শুদ্ধ উচ্চারণ বিষয়ক বক্তৃতা : অন্ত্য ‘অ’ এর সূত্র - অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস



পর্ব : পাঁচ

শুরু হলো অন্ত্য-অ

গত সপ্তাহে হঠাৎ করে অচেতন হয়ে যাওয়ায় স্যারকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। উচ্চারণের ক্লাসটি আর হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ ছিল বেশ। কিন্তু এক সপ্তাহেই ফিরে আসবেন তা ভাবতে পারে নি কেউ। অন্য দিনের মতো চটপটে ভাব না থাকলেও গলার জোর কমে নি স্যারের। ‘চলা’ ধীর হলেও ‘গলা’ এবং ‘বলা’র দাপট আছে আগের মতোই। চেয়ারে বসে থেকেই হাঁক দিলেন, আদ্য-অ এবং মধ্য-অ এর পর এবার আমরা অন্ত্য-অ-এর সূত্র আলোচনা করবো। লেখ তোমরা :
প্রথম সূত্র : শব্দের শেষে যদি অ-কারান্ত যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকে তা হলে তার প্রথমটি হসন্ত এবং দ্বিতীয়টি সাধারণত: ও-কারান্ত উচ্চারিত হয়।যেমন-
যুক্ত - যুক্ + তো - যুক্তো
শক্ত - শক্ + তো - শক্তো
ভক্ত - ভক্ + তো - ভক্তো
রক্ত - রক্ + তো - রক্তো
যত্র - যত + ত্রো - যত্ত্রো
তত্র - তত্ + ত্রো - তত্ত্রো
পত্র - পত্ + ত্রো - পত্ত্রো
মাত্র - মাত্ + ত্রো - মাত্ত্রো
গঞ্জ - গন্ + জো - গন্জো
কক্স - কক্ + সো - কক্সো
ভণ্ড - ভন্ + ডো - ভন্ডো
অভ্যাসবশত একটু উঠে দাঁড়ালেন। আগের মতো শরীরে জোর না থাকায় পায়চারী করার চেষ্টা করেও হাঁটতে পারলেন না। চেষ্টা আর না বাড়িয়ে বলতে শুরু করলেন দ্বিতীয় সূত্র।
দ্বিতীয় সূত্র : ত কিংবা ইত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে অন্তিম-অ রক্ষিত এবং ও-কারান্ত উচ্চারিত হয়ে থাকে। যেমন :
নত - নতো
গত - গতো
মত - মতো
যত - যতো
তত - ততো
শতশত - শতোশতো
গঠিত - গোঠিতো
রক্ষিত - রোক্খিতো
পালিত - পালিতো
দিক্ষিত - দিক্খিতো
মোহিত - মোহিতো
লোলিত - লোলিতো
নিশ্চিত - নিশ্চিতো
নির্মিত - নির্মিতো
মৌসুমীর মাঝে মাঝে ফোড়ন কাটার অভ্যাস আছে। ফট্ করে বলে ফেললো স্যার, আমরা তাহলে এখন থেকে ভাত্কে ভাতো, হাত্কে হাতো বলবো? দুম্ করে বোমা ফাটার মতো হাসিতে ফেটে পড়লো ক্লাসশুদ্ধ সবাই। কোনরকম অপ্রস্তুত না হয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলে চললেন স্যার, যে সকল শব্দ বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত হয়, সে সকল শব্দে সাধারণত হসন্ত উচ্চারিত হয়। তাছাড়া মানুষের মুখের ভাষার ব্যবহারে কতকগুলো শব্দের উচ্চারণ বদল হয়ে যায়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় :
হাত - হাত্
ভাত - ভাত্
অতীত - ওতিত্
উচিত - উচিত্
মৌসুমী এখনো হাল ছাড়ে নি। আগের মতো উদ্ধত ভঙ্গিতে বলে উঠলো, স্যার আপনি বললেন মোহিত উচ্চারণ মোহিতো হবে। কিন্তু আমরা তো কবি মোহিত লাল মজুমদারকে কখনো মোহিতো লাল মজুমদার বলি না। এবার আর কেউ হাসলো না। প্রশ্নটা খুবই সিরিয়াস ভেবেই বোধহয় চুপ করে থাকলো সকলে। কেউ না হাসলেও স্যারের মুখভর্তি হাসি ছড়িয়ে পড়লো। মৌসুমীর দিকে তর্জনী উঁচু করে বোঝাতে শুরু করলেন, তোমার জিজ্ঞাসাকে কটাক্ষ না করে সহজ ভাষায় প্রশমিত করার চেষ্টা করা দরকার। আমি আগে কোথাও কোথাও যেমনটি বলেছি, বিশেষ্য বা নামের ক্ষেত্রে এখানেও ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। এ ক্ষেত্রে নাম বা পদবী হলে সাধারণত অন্তিম-অ টি হসন্ত উচ্চারিত হয়। যেমন :
রনজিত রক্ষিত - রোক্খিত্
মাধুরী দিক্ষিত - দিক্খিত্
আনন্দচন্দ্র পালিত - পালিত্
লোলিত মোহন নাথ - লোলিত্
মোহিত লাল মজুমদার - মোহিত্
শম্পা খুব সহজ সরল। ওর প্রশ্ন করার ধরণটাও বেশ সাধারণ। স্যার একটু থামতেই উঠে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, আমরা নিশ্চিত্ বলবো না নিশ্চিতো বলবো? শম্পার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে স্যার বলতে লাগলেন, সূত্রমতে আমরা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত কে নিশ্চিতোই বলবো। কিন্তু এখন অনেকেই নিশ্চিত্ বলছেন দ্বিধাহীন চিত্তে। হয়তো এমন একদিন আসবে, যখন মুখের ভাষার গতিময়তো নিশ্চিতো কে নিশ্চিত্, স্থগিতো কে স্থগিত্ করে ফেলবে। তখন আমাদের মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর থাকবে না।
এতক্ষণে লিকার চায়ের প্রতি স্যারের তৃষ্ণা তুঙ্গে উঠেছে। কিন্তু রইস এখনো চা নিয়ে ঢুকছে না দেখে বেশ জোরে হাঁক দিলেন। দরজার বাইরে থেকে রইসের লাজনম্র মুখখানা ভিতরে চলে এলো। হাতের ইশারায় স্যারকে আশ্বস্ত করে দ্রুত বেরিয়ে গেল আবার। যেন কিছুই ঘটেনি এমনভাবে বলতে লাগলেন ফের।
তৃতীয় সূত্র : বাঙলা ভাষাতে এমন কিছু শব্দ রয়েছে যেগুলি বিশেষ্যরূপে ব্যবহৃত হওয়ার সময় হসন্ত উচ্চারিত হয়, কিন্তু বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হওয়ার সময় ও-কারান্ত উচ্চারিত হয়।
বিশেষ্য
ভাল (কপাল) - ভাল্
কাল (সময়) - কাল্
বিশেষণ
ভাল (উত্তম) - ভালো
কাল (রঙ) - কালো
চতুর্থ সূত্র : বিশেষ্যবাচক শব্দের শেষে ‘হ’ এবং বিশেষণবাচক শব্দের শেষে ‘ঢ়’ থাকলে সাধারণত ও-কারান্ত উচ্চারিত হয়। যেমন :
বিবাহ - বিবাহো গাঢ় (গাঢ়ো)
কলহ - কলোহো দৃঢ় (দৃঢ়ো)
বিরহ -বিরহো মূঢ় (মুঢ়ো)
গ্রহ - গ্রোহো প্রগাঢ় (প্রোগাঢ়ো)
স্নেহ - স্নেহো দেহ - দেহো
মৌসুমী মনে হয় এখনো শান্ত হতে পারে নি। আবারো সুযোগ পেয়ে ফস্ করে বলে ফেললো, স্যার তাহলে আষাঢ়কে আষাঢ়ো বলতে হবে? এবারে স্যার বেশ বিরক্ত হলেন। গলা দিয়ে গাঁক করে শব্দ বেরিয়ে এলো। বিব্রত মৌসুমীকে আরো চটানোর জন্য দীপু পেছন থেকে সহানুভূতির ছলে চুক্ চুক্ শব্দ করতেই ধপাস করে বসে পড়লো মৌসুমী। ধীরলয়ে স্যার বলতে লাগলেন, বিশেষণ বাচক শব্দের শেষে ‘ঢ়’ থাকলে ও-কারান্ত উচ্চারণ করতে হয়। কিন্তু আষাঢ় বিশেষণবাচক নয়, বিশেষ্যবাচক শব্দ। তাই এক্ষেত্রে আষাঢ়কে আষাঢ় বলা হয়। একগ্লাস লাল চা, বাটিতে ছোলামুড়ি ও দুটো সবরি কলা নিয়ে রইস পাশের চেয়ারে রাখলো। ক্লান্ত যতীন স্যার বসে পড়লেন চেয়ারে। রইসের দিকে সস্নেহ দৃষ্টি মেলে মৃদু ধন্যবাদ দিলেন যেন।

অন্ত্য-অ-এর শেষ সূত্র

ভিতরে ঢুকেই হাঁক দিলেন, জহির, তুমি বলোতো, অন্ত্য-অ-এর সূত্র শেষ হয়েছে কি না? প্রশ্নের ধরণ বুঝতে না পেরে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো জহির। শম্পা খুবই সপ্রতিভ। জহিরকে রক্ষা করার জন্য চট্ করে বলে ফেললো, স্যার, অন্ত্য-অ-এর চারটি সূত্র বলা হয়েছিল। আমার মনে হয়, আরো কয়েকটি সূত্র বাকী রয়েছে। শম্পার কথায় স্যার বেশ খুশী হলেন মনে হলো । ওর কথা লুফে নিয়ে বললেন, হ্যাঁ, এবারে অন্ত্য-অ-এর পরবর্তী সূত্র।
পঞ্চম সূত্র : বাঙলা ভাষার যে সকল শব্দের বানানে বিসর্গ ছিল, কিন্তু বর্তমান বানানে বিসর্গ বিলুপ্ত হয়েছে, সেসকল শব্দের উচ্চারণ সাধারণত ও-কারান্ত হয়। যেমন :-
প্রথমত - প্রোথমত (প্রোথোমতো)
বস্তুত - বস্তুত (বোস্তুতো)
দ্বিতীয়ত - দ্বিতীয়ত (দিতিয়তো)
সতত -সতত (সততো)
প্রণত - প্রণত (প্রনতো)
প্রায়শ - প্রায়শ (প্রায়শো)
পায়চারী বন্ধ করে চেয়ারে বসে পড়লেন। মিনিট খানেক পরে ক্লাসরুমের স্তব্ধতা ভেদ করে গমগমে স্বরে বলে উঠলেন পুনরায়, পাঁচ নম্বর সূত্রের পর ছয় নম্বর সূত্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছি আমরা। এর মধ্যে তোমাদের মনে কোনো প্রশ্ন জেগে থাকলে বলতে পারো। মিনিট দুয়েক অপেক্ষা করে কোনো উত্তর পেলেন না স্যার। হাসিমুখে উঠে দাঁড়ালেন আবার। হাঁটতে হাঁটতে শুরু করলেন পরবর্তী সূত্র।
ষষ্ঠ সূত্র : বাঙলা ভাষায় ‘তর’ এবং ‘তম’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে শেষের ‘অ’ সাধারণত রক্ষিত থাকে এবং ও-কার উচ্চারিত হয়। যেমন :
উচ্চতর - উচ্চোতরো
উচ্চতম - উচ্চোতমো
অধিকতর - অধিকোতরো
গভীরতর - গভিরোতরো
বৃহত্তম - বৃহত্তমো
ক্ষুদ্রতর - ক্ষুদ্দ্রতরো
ক্ষুদ্রতম - ক্ষুদ্দ্রতমো
শম্পা আবার উঠে দাঁড়ালো। দু-হাত বুকের কাছে উঠিয়ে খুব আস্থার সাথে উচ্চারণ করলো, স্যার, তাহলে আমরা এখন থেকে উত্তমকে উত্তমো বলবো। যতীন স্যার কিন্তু মোটেই রাগ করলেন না। সবার হাসির হুল্লোড়ের মাঝে গলা চড়িয়ে বললেন, শম্পার কথায় হাসির কিছু নাই।
ও, সরলভাবে সূত্র অনুসরণ করে কথাটি বলে ফেলেছে। তাতে ওর কোনো দোষ দেখি না। মূল ব্যাপারটি হচ্ছে, এটি একটি ব্যতিক্রম। উত্তম-এর উচ্চারণ হবে উত্তম্। সে যাকগে, এবারে আমরা সপ্তম ও শেষ সূত্রে প্রবেশ করবো।
সপ্তম সূত্র : ঙ, ং, ঋ-কার, ঐ-কার, ঔ-কার এর পরে অ-কারান্ত বর্ণ থাকলে সাধারণত শেষের বর্ণটি ও-কারান্ত উচ্চারিত হয়। যেমন-
ঙ : 
অঙ্ক - অঙ্কো
বঙ্ক - বঙ্কো
শঙ্খ - শঙ্খো
ং : 
অংশ - অংশো
বংশ - বংশো
ধ্বংশ - ধ্বংশো
কংশ - কংশো
ঋ-কার : 
কৃশ - কৃশো
বৃষ - বৃশো
তৃণ - তৃনো
নৃপ - নৃপো
মৃগ - মৃগো
ঐ-কার : 
দৈব - দোইবো
শৈব - শোইবো
স্ত্রৈণ - স্ত্রোইনো
জৈন - জোইনো
কৈল - কোইলো
হৈল - হোইলো
তৈল - তোইলো
ঔ-কার :
গৌণ - গোও্নো
মৌন - মোও্নো
ধৌত - ধোও্তো
ভৌত - ভোও্তো
ভৌম - ভোও্মো
পৌর - পোওরো
সৌর - সোওরো
গৌর - গোওরো
একটানা এতগুলো নিয়ম বলতে বলতে স্যার হাঁফিয়ে উঠেছিলেন। স্যারেরতো শুধু বলা নয়। বলার সঙ্গে চলাও বাদ যায় না। বলা চলা আর গলা এই তিন নিয়েইতো স্যারের আসল কলা। চেয়ারে বসে পড়লেন ধপ্ করে। চা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল। আধঘন্টা আগে দিয়ে যাওয়া চা গরম থাকে কি করে? ঠাণ্ডা চায়ে মুখ দিয়ে একটু বিকৃত হলো স্যারের মুখ। তারপর সামলে নিয়ে পরম তৃপ্তিভরে লম্বা চুমুক দিয়ে গ্লাসের অর্ধেক চা শেষ করে ফেললেন।
শম্পার যেন আজ কি হয়েছে। বারবার উঠে দাঁড়ানোর প্রবণতা আবার তাকে পেয়ে বসলো। স্যারের নিরবতার সুযোগে উঠে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলো, স্যার, এক্ষেত্রে কোন ব্যতিক্রম নেই? সাথে সাথে কোন উত্তর না দিয়ে হাফপ্লেটে পড়ে থাকা ডাবল্ পান মুখে পুরে কুচমুচ শব্দ তুলে সামনে তাকালেন। হা করে হাতের তালু থেকে বাবাজর্দার দলা মুখের ভিতর ছুঁড়ে দিলেন। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা শম্পাকে হাতের ইশারায় বসতে বলে উঠে দাঁড়ালেন। হাঁটতে হাঁটতে বললেন, ব্যতিক্রমতো অবশ্যই আছে। যেমন :
খৈল - খইল্
দৌড় - দোউড়্
পৌষ - পোউষ্
গৌড় - গোউড়্
হঠাৎ পেছন ফিরে চেয়ারের পাশে পড়ে থাকা কাপড়ের ঝোলাটা কাঁধে তুলে নিলেন। ঝট্ করে ঘুরেই চলতে লাগলেন দরজার দিকে। কেউ কিছু বললো কি না সে ব্যাপারে ভাবার কোন প্রয়োজন বোধ করলেন না স্যার।
(চলবে)