মূল লেখার লিংক
সম্মানিত পাঠক,
অন লাইনে দেয়া আমার ”বাংলা ভাষা আজ বিপদের মধ্যে” লেখাটিকে নিয়ে আপনাদের ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য আমি অত্যন্ত বিনতভাবে গ্রহণ করেছি এবং তা নিয়ে আমার পরবর্তী সময়ের কিছু ভাবনা আজ এখানে যুক্ত করছি। তবে আমার এ প্রতিক্রিয়া প্রকাশের অনিবার্য দেরীতে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি আপনাদের সকলকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই যাঁরা এ লেখাটি ধৈর্য নিয়ে পড়েছেন এবং আপনাদের যথার্থ মতামত প্রদান করেছেন। ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আপনাদের কাছে আরো পাব বলেই বিশ্বাস করি ।
মিনহাজ আহমেদ, হুসাইন আল মামুন, ফেনা, সুপ্ত চিন্তা, লাল গাছ, পলাশ মিঞা, রশীদ জামিল, এ.বি.এম মহসীন, জহিরুল ইসলাম, কেশোয়ারা সুলতানা, ইনছানুর, দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, কে.এম.ওমর ফারুক, প্রাজ্ঞজন, প্রামাণিক জালাল উদ্দিনসহ আপনাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই ।(কাউকে কাউকে তুমি সম্বোধন করতে পারলে ভাল লাগত কিন্ত আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনে সর্বজনগ্রাহ্য শব্দ ব্যবহার করা যৌক্তিক, ব্যক্তি যতই স্নেহের হোক।)
ঠিক এই সময়ে আমরা নাগরিকরা সর্বাধিকভাবে তিনটি চাপের মধ্যে নিজেদেরকে সমর্পন করতে বাধ্য হয়েছি যথা যানচাপ, জনচাপ ও কর্মচাপ। এই ত্রয়ীচাপকে মোকাবেলা করতে আমরা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছি, অমানবিক হতে হতে যান্ত্রিক হয়ে পড়েছি। অন্যকারো ধাক্কাতে নয়, নিজেই নিজেকে যান্ত্রিক করেছি বা মেনেছি বলে। হার মেনেছি সময়ের কাছে, আন্তরিকতার কাছে, মায়া-ভালবাসার কাছে কারণ জয়ী হিসাবে নিজেকে দেখতে চাই বলে। ভীড়ের মধ্যে নিজেকে চিনে নিতে চাই বলে। এই জয়ী হওয়ার বাসনা মনুষ্যজাতির রোমে রোমে চিরপ্রথিত। যেদিন থেকে মানুষ নিজেকে নিজেই শ্রেষ্ঠ ভাবতে শিখল, যেদিন থেকে মানুষ অন্যকে নিজের নিচে দেখার বাসনা তৈরি করল। সেদিন থেকে জয়কে পাওয়া, জয়কে ছোঁয়া মানুষের একটি বড় কাজ হয়ে দেখা দিল। তবে জয় সেতো খারাপ নয়। জয়ী হওয়ার বাসনায় কোন অন্যায় নেই। সে জয় সত্য পথে থেকে আসুক। দাম্ভিক মুক্ত হয়ে আসুক। অন্যকে ক্ষতি না করে, অন্যকিছুকে ক্ষতি না করে ও আইনসিদ্ধ হয়ে আসুক আমরা তাকে সাদরে গ্রহণ করব। জয় পরাজয়ে আরেকটি বিষয় বলা খুব জরুরি যে, পৃথিবীর তাবৎ বিষয়কে জয় পরাজয় দিয়ে দেখতে চাওয়ার মধ্যে বিজ্ঞান নেই, যুক্তি নেই, যথাযথও নয়। এই চাওয়ার মধ্যে আরো বড় ধরণের যান্ত্রিকতার গন্ধ থাকে, সন্ধান থাকে। আমাদের মুখের ভাষা, পবিত্র এক অধ্যায় - জন্মদাত্রী মা থেকে পাওয়া। তার ভাল মন্দ নিয়ে তর্ক করা যাবে না এমন অনাধুনিক এবং অশিক্ষিত প্রকাশ আমার কাম্য নয়, সে দলেরও আমি নই। অগ্রসর হতে হবে যতটা জয় পরাজয় দিয়ে, তারও চেয়ে বেশী গভীরতা দিয়ে, বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ও অধ্যয়ন-অধ্যবসায় দিয়ে, ভালবাসা দিয়ে কারণ ভাষা তো কেবল তলোয়ার খেলা নয় কিংবা বাকযুদ্ধও নয়।
ভাষার ভিতরে বাস করেও আমরা এখন পর্যন্ত ’ভাসা ভাসা’ থেকে গেলাম। তাতে ক্ষতি নেই, জীবন-যাপনে বাধাও নেই। সমাজে-রাষ্ট্রে চলতে, চালাতে কোথাও অসুবিধা নেই। শিক্ষা ক্ষেত্রে, কর্ম ক্ষেত্রে, সাংসরিক ক্ষেত্রে, প্রেম-ভালবাসা-বিয়ে কোথাও তার আবশ্যকতা নেই। অন্তত রাষ্ট্র সেরকম হয়ে উঠেনি বা সেই রকম শিক্ষার ব্যবস্থা রাষ্ট্র এখনও ভাবতে পারেনি। তাতে কী, কথাটা হলো যিনি ক্ষতি মনে করবেন তিনি প্রয়োজনও মনে করবেন, তিনি এগিয়ে আসবেন, তিনিই ভাষাকে ভাসা থেকে গভীরে নিয়ে যাবেন। ব্যক্তি হোক কিংবা সংগঠন হোক এই চাওয়া একা তার কারণ তারই যে প্রয়োজন। বড় বিচিত্র এই হিসাব। যে হিসাবে রাষ্ট্র নিজেকে সেই দায়িত্বের বাইরের বলেই ভাবতে পারছে। নইলে বাংলা আজ খোদ তার দেশেই এত হতাদর কেন ?
এখানে দুটো দিক কিংবা ভিন্নতা স্পষ্ট। রাষ্ট্র এবং ব্যক্তির চাওয়া পাওয়া। ভাষাকে গ্রহণযোগ্য পথে চলার রীতিনীতি ব্যক্তির করা সম্ভব নয় ফলে তা প্রয়োগের সম্ভবনার প্রশ্নই আসে না। যা চলছে যেভাবে চলছে তা ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের চেষ্টার ফসল। যা আগেও ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। অতএব ব্যক্তি মানুষকে ধরে ভাষার আশা নিরাশাকে এগিয়ে নিতে হবে। ফলে শেষ পর্যন্ত ব্যক্তির কাছে আবেদন -নিবেদন করতে হবে।
মনের সঙ্গে ঝুঝতে হবে সবার আগে যে, ভাষার সৌন্দর্য কতটা গ্রহণীয়, কতটা প্রয়োজন ,কতটা মানা চাই, কতটা মানা উচিৎ! ব্যক্তির সঙ্গে ভাষার সম্পর্ক কিভাবে- ভালবাসা-মায়ার নাকি ঔদাসীন্য কিংবা শত্রুতার! আদৌ কোন সম্পর্কবোধ মনে হয় কী-না ! যদিও ব্যক্তির ভাষা প্রকাশের ধরণে বোঝা যাবে ঐ ব্যক্তির সঙ্গে ভাষার সম্পর্ক কীরকম বা কতটা গভীর এবং বোঝা যাবে ভাষা তার কাছে কতটা আপন ! অবশ্য এটি পরিষ্কার বুঝতে চাইলে ভাষার একেবারে কাছে যেতে হবে তার ব্যবহারিক উপায় নিয়ে । বাংলার কথোপকথন, শব্দের উচ্চারণ, শব্দের বানান যে কোন ধরণের প্রকাশের মধ্য দিয়ে। ভাষার কোথাও কোন ধরণের প্রকাশে ভুল হলে আঘাত পাওয়া, অবসন্ন হওয়া, ব্যথা অনুভূত হওয়ার মধ্যে ভাষার সঙ্গে ভালবাসা, সুসম্পর্ক ফুটে ওঠে। এইটি বুঝতে ভাষাবিদ্ হতে হয় না, এক বস্তা সার্টিফিকেটও লাগে না - মন থাকতে হয়, গর্ব থাকতে হয়, দাবী থাকতে হয় । নিজেই বুঝে নিতে পারি নিজের কাছে। সত্যি সত্যি নিজের প্রতিক্রিয়া কীরকম হয়। সেখানে তো আর ফাঁকি নেই। আমি আমাকে ফাঁকি দেয়ার কী মানে ! যেখানে আমার ভালবাসা, আমার শ্রদ্ধা এবং আমার মায়ের স্বরূপ সন্ধানে ব্যাপৃত আমি। যেখানে চেতনায় নিঃস্বার্থ আরাধ্য কেবল। তার আগে বা পরে আর কিছূ থাকতে নেই, কিছু থাকতে পারে না। কেবল অনুভব, কেবল মুক্তির স্বাদ। কিন্তু মুক্তি অত সোজা নয় কারণ যখন যুক্তি এসে দাঁড়ায় আরো শক্ত হয়ে, অন্য কোন পোষাকে অন্য কোন ছায়ায়, অন্য কোন ভাবনা নিয়ে। যুক্তি এমনি এমনি আসে না তারও অনেক কারণ থাকে। ভাষাকে যখন কেউ ব্যবহার করতে চায় অন্যভাবে, ভাষাবেশী হয়ে। সুবিধাবাদী হয়ে, ব্যবসায়ী হয়ে, সাংস্কৃতিক কর্মী হিসাবেই কিংবা আধুনিকতার অন্য কোন পথ ধরে, সেই ব্যবহারের পক্ষে যুক্তি তৈরি করবেন ব্যবহারকারী অবশ্যই। তখনই তৈরি হয় আর অনেক কথা, অন্য মোড়কে সাজিয়ে, গলা বাজিয়ে। যেখানে ভাললাগা আর ভালবাসা খেই হারিয়ে ফেলে। যিনি ভাষাকে সুবিধায় বা ব্যবসায় নিয়ে ব্যবহার করছেন না তার বলবার কথা তখন আর থাকে না। কারণ ভাষার মধ্যেও দখলদারিত্ব থাকে সেটি সম্পন্ন হলে তখন করার কিছু থাকে না। যিনি লিখতে, পড়তে, বলতে ভুল করছেন না বা করতে চাইছেন না তার কোন কথা নেই । তাহলে? যখন ভুল করে চলা নয়, ভুলকে ভুল না বলে চলা। তখন ভুলের পক্ষে সোজা অস্বীকার। অস্বীকার হলেই তাকে প্রতিষ্ঠার জন্য তৈরি হবে অনেক অনেক যুক্তি। তবেই না জয় হবে। তবু ভুল স্বীকার করা অনেকের মত হয়ে, সাধারণ হয়ে থাকা তাদের কার্য নয়। ভুল স্বীকার মানেতো নিজের হাঁটা পথে নিজের বাধা। বরং ভুল অস্বীকার এর পক্ষে থাকবে কঠিন যুক্তি। থাকুক। মনে রাখতে হবে তা কখনও অকাট্য নয় এবং সেখান থেকেই আমাদেরকে সর্বজনীনকে বের করে আনতে হবে ।
একটি কথা খুব বলা হয় য়ে, ভাষা বহমান । নির্জলা সত্যি ! বহমান মানে শুধু চলা নয়, বেঁচে থেকে চলা। যোগ-বিয়োগের চলা হলেও যোগের হার বেশী থাকবে। তাহলেই বাড়বে। তা হচ্ছেও। আজ সারা পৃথিবীতে বাংলা ভাষী প্রায় ২৫ কোটি, সারা পৃথিবীর চতুর্থতম ভাষা। সংস্কৃত ভাষাও চলছে এখনও তবে সেখানে বিয়োগের হার অনেক বেশী। ফলে সংস্কৃত ভাষা আজ কেবল ডিগ্রি পাওয়ার ভাষা, মানুষের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই যার ফলে এই ভাল-মন্দে মানুষের কিছু যায় আসে না। অর্থ্যাৎ বহমান একবারে এমনি এমনি চলা নয়। সেখানে চিন্তা-চেতনা, ভাল-মন্দ,শিক্ষা-দীক্ষা সব যোগ হয়। ভাষার সঙ্গে নদীর উদাহরণ এইকারণে আসে। নদী মানে তার একা চলা নয়, একা থাকা নয়। দেশ-মানুষ-সমাজ সব কিছুকে নিয়ে, সব কিছুর মধ্য দিয়ে নদী। তার ভাঙনে বাধা দিতে হয়, পাশে গাছ লাগাতে হয়, তাকে ড্রেজিং করতে হয়, সেখানে আবর্জনা, তেল ফেলতে নিষেধ করা হয়। অনেক যত্নে একটি নদী বেঁচে থাকে। নদীর উৎসমুখ সমৃদ্ধ থাকতে হয় ।’ উৎসমুখে বাধাপড়ি মোরা পরিক্ষীণ, নষ্টপ্রাণ, গতিশক্তিহীন’- রবীন্দ্রনাথ। তবেই নদী মানুষের কাছে, ব্যবহারীর কাছে, সমাজের বুকে আরো সুন্দর হয়ে ফুটে ওঠে।
একটা কথা মনে রাখা জরুরি যে, প্রযুক্তির প্রভাব একটা বড় প্রভাব। সেই প্রভাব কেবল ঐ প্রযুক্তিকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়। সেই সময়ের সমাজ ব্যবস্থা, তার মানুষ, তার ভাষা সব কিছুর উপর প্রভাব ফেলবে। ফলে আমাদের এই সময়ে কম্পিউটার, মোবাইল যে ভাষায় গ্রন্থিত এবং পরিচিত সে ভাষার প্রভাব আমাদের ভাষায় পড়বে এটাই সত্যি। প্রযুক্তি থেকে আগত ভাষার এ মিশ্রণকে অস্বীকার যাবে না। সে ক্ষেত্রে কতটা প্রভাবিত হতে পারি সেইটুকু আমাদের বিচার-বিশ্লেষণে আনতে হবে । ভালটুকু অবশ্যই গ্রহণ করব এবং যতটুকু আমাদের ক্ষতি করবে ততটুকু আমাদের বাদ দিতে হবে। ধরা যাক, এই সময়ে আমরা আমাদের টেলিভিশনে অন্তত বিশটা হিন্দি চ্যানেলের অনুষ্ঠান উপভোগ করি । ফলে নিশ্চিত করে বলা যায় যে হিন্দি ভাষা অনেক সময় ধরেই কানে প্রবেশ করে। এর ফলে দেশের বাইরের একটি ভাষা সম্পর্কে আমাদের জানার আগ্রহ তৈরি হতে পারে এবং এই আগ্রহ মেটেই খারাপ কিছু নয়। এই আগ্রহ নিয়ে হিন্দি লেখা-পড়া-জানা চলতে পারে । ভাষা জানার পথে আরো একটি ভাষা যোগ হবে যা অবশ্য গৌরবজনক। কিন্ত লেখা-পড়া-বোঝা এই সমস্ত বাদ দিয়ে যদি আমার বাংলা বাক্যের শব্দের ফাঁকে ফাঁকে একটা করে হিন্দি শব্দ বসিয়ে দিই তাহলে আর ভাষা শিক্ষা হলো না, ভাষাকে সম্মান জানানো হলো না। এমনও শোনা যায় কিছু বাংলা শব্দকে খানিকটা বাঁকা-টেরা করে হিন্দির প্রস্বর ঢুকিয়ে বাংলা বলার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। এখানে দুই ভাষার বারটা বাজলেও নিজের বাংলা ভাষাকে অসম্মান করা হলো বেশী এবং ক্ষতিগ্রস্তও করা হলো যথেষ্ট। উপরন্তু হিন্দি ভাষাটিও লেখা-পড়া-বোঝার বাইরেই থেকে গেল। ইংরেজীতে ভাষা নিয়ে এই খেলা অনেক বেশী শোনা যায়, করতেও দেখা যায়। যেমন তোর বাড়িতে গেলাম বাট তোকে পেলাম না সো চলে এলাম। তাতে কী দাঁড়াল ! একই সঙ্গে বাংলার সর্বনাশ হলো, ইংরেজীও ক্ষতিগ্রস্থ হলো। আর যে ব্যক্তি এই বাক্যটি ব্যবহার করলেন তাঁকেই বা কোন শ্রেণিতে ফেলা যায়। জামা আর পাজামায় পোষাকটা কেমন হলো।
বাংলা কথায় কিংবা লেখায় অতি স্বাধীনতার ফলে বাংলার অনেক শব্দ আজ বিকলাঙ্গ। এই ক্ষতির মূল্য কে দেবে? উদাহরণ হিসাবে একটি বাক্য বলা যায়,ধরা খাওয়া। এই ব্যবহারকে শিষ্ট ব্যবহার বলা যায় না। অথচ এই ধরণের কথা বলা হচ্ছে। প্রথমে কিছু কিছু ছিল। এখন ঘরে ঘরে পিতা-পুত্রে, মাতা-কন্যায়। এধরণের কথা চালু হতে সময় লাগে না। আরো আগে মেয়েদের দেখে কথা হতমাল যায়। সভ্যজগতের কোন মানুষ এই ব্যবহার করতে পারে? অথচ এই ব্যবহার হয়। শব্দের কোন দোষ নেই অথচ মানুষের কারণে এই শব্দগুলি আজ বিকলাঙ্গ। এই স্বাধীনতা ভোগ করা উচিৎ নয়। কাম্য নয়। তাহলে কোথাও নিয়ম তৈরি হওয়া চাই। আর তা মানতে হবে, মানাতে হবে। তবেই সুস্থ, তবেই শান্তি, তবেই এগিয়ে চলা ।
গোলাম সারোয়ার
উচ্চারণ বিষয়ক প্রশিক্ষক ও নির্দেশক
আবৃত্তি ও নাট্যশিল্পী এবং সংস্কৃতিকর্মী
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন