রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১১

বাকশিল্পের বিকাশে কণ্ঠশীলন


এখানে আমরা দুটো দিক খুঁজে পাই। একটি হলো বাকশিল্পের বিকাশে শুদ্ধ, সহজ ও সুন্দর উচ্চারণ অপরটি হলো এতে কণ্ঠশীলনের ভূমিকা।

উল্লিখিত বিষয় হতে আমরা বুঝতে পারি- স্বতস্ফুর্তভাবে বা এমনি এমনি বাকশিল্পের বিকাশ সম্ভব নয়। শুদ্ধ, সহজ ও সুন্দর অর্থাৎ প্রমিত উচ্চারণে বিভিন্ন সমস্যা থাকার কারনে বাকশিল্পের বিকাশ সাধন হচ্ছে না।আর এই কারণেই কণ্ঠশীলন নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্ম। বাকশিল্পের বিকাশ সাধনের জন্য বিভিন্ন রকম সমস্যার সমাধানে কণ্ঠশীলন কিভাবে তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।
* বাংলা ভাষার লিখিতরূপ এবং উচ্চারিতরূপ অনেক ক্ষেত্রে এক নয়। অনেক শব্দ লেখা হয় একভাবে কিন্তু তা বলা হয় অন্যভাবে। সচরাচর পরীক্ষাগুলো আমরা লিখিতভাবে দিয়ে থাকি।ফলে ভাষার লিখিতরূপ শুদ্ধ হলেও মৌখিকরূপ অশুদ্ধ থেকে যায়। ভাষার মৌখিকরূপের শুদ্ধতা আনা ও সুন্দর করাই কণ্ঠশীলনের প্রধান কাজ।
* ভাষার প্রকাশ করা হয় ধ্বনি এবং বর্ণের মাধ্যমে। ধ্বনির লিখিতরূপই হলো বর্ণ। দেখা যায় যে, একাধিক বর্নের ধ্বনি বা উচ্চারিত রূপ একটি আবার একাধিক ধ্বনি প্রকাশ পায় একটি বর্নে। তাই কোন বর্নে কখন কোন ধ্বনি উচ্চারণ করতে হবে তা কণ্ঠশীলন শিখিয়ে দেয়, যা স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানো হয় না।
* বাংলা বর্ণমালায় বেশকিছু অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনি আছে। প্রাণ অর্থ বাতাস। প্রাণ ছাড়া যেমন কোন প্রাণী বাঁচতে পারে না তেমনি বাতাস এর কমবেশি হলে বর্নের নিজ স্বত্তা নষ্ট হয়ে যায়। তাই বর্ণমালার অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ সম্পর্কে কণ্ঠশীলন শিক্ষা দিয়ে বর্ণদের মৃত্যুর হাত থেকে যেমন রক্ষা করে তেমনি উচ্চারণের শুদ্ধতা ও সৌন্দর্য্য আনয়ন করে।
* ভাষাকে ব্যবহার করতে করতে মূল থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে তার উচ্চারিতরূপ বিভিন্ন রকম হয়ে যায়। ভাষার এই বিভিন্নরূপকে পরিহার করে সহজ ও সুন্দর রূপের প্রসার ঘটানোই কণ্ঠশীলনের আর এক কাজ।
* অন্যভাষা শেখার জন্য আমরা দিনের পর দিন সময় ব্যয় করি। অথচ মাতৃভাষার পিছনে আমরা সময় দেই না। মাতৃভাষার প্রতি এই অবহেলার কারণে, দরদের অভাবে বা আন্তরিকতার অভাবে ভাষা তার স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে। মাতৃভাষার জন্য ৫২তে রক্ত দিয়েছি শুধু এটা মনে করে গর্ববোধ করলে হবে না। সেই ভাষাকে সুপ্রতিষ্টিত করার জন্য সাধনা করতে হবে এই শিক্ষাই দিয়ে থাকে কণ্ঠশীলন।
অন্যদিকে কণ্ঠশীলন শুধু প্রশিক্ষণ দিয়েই ক্ষ্রান্ত হয় না। বরং প্রশিক্ষণার্থীদের এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য করে নেয়। যেকোন ভাষা শেখার জন্য শুধু গ্রামার/ব্যাকরণ জানলেই চলে না। উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়া কোন ভাষাই ভালভাবে শেখা যায় না। কণ্ঠশীলন প্রমিত উচ্চারণের স্বার্থক প্রয়োগক্ষেত্র। শুদ্ধ, সহজ ও সুন্দর উচ্চারণের পরিবেশ সৃষ্টি করে বাকশিল্পের বিকাশে কণ্ঠশীলন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে।
(সাহিত্যের বাচিক চর্চা ও প্রসার প্রতিষ্ঠান কণ্ঠশীলন শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তিশিক্ষার চারমাসব্যাপী নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে থাকে নিয়মিতভাবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের দোতলায় প্রতি শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১২.৩০ মিনিট পর্যন্ত ক্লাস নেয়া হয়।)

সালাম খোকন
Ork5050@gmail.com

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন